ফুলপুরে অসহায় মহিলাকে ঢেউটিন, নগদ টাকা ও খাদ্যসামগ্রী দিলেন ইউএনও, ঘর করে দেয়ার আশ্বাস

মোঃ খলিলুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্তা গ্রামে খড়, কাগজ ও পাতা লতা দিয়ে তৈরী একটি খুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবণ যাপন করছেন ভিক্ষুক বিধবা মালেখা বেগম। বিধবা মালেখা বেগমের অসহায় জীবণের চিত্র তুলে ধরে ফেসবুকে পোস্ট দেখে তার পাশে দাড়ালেন ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীতেষ চন্দ্র সরকার।
বৃদ্ধা মালেখা বেগম সারাদিন মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভিক্ষা করে খেয়ে না খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। সারাদিন ভিক্ষা করার পর রাতে খুপড়ি ঘরে এসে অনেক কষ্টে থাকেন। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ে। তারপরও তাকে এখানেই থাকতে হয়। সে একটি ঘরের জন্য অনেকের কাছে গিয়েছেন। তাকে আশ্বাস দিলেও ৩ বছরেও তা বাস্তবায়ন করেনি কেউ। অবশেষে বৃদ্ধা মালেখা বেগমের মানবেতর জীবণযাপন নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট হলে তা ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীতেষ চন্দ্র সরকারের নজরে আসে। ফেসবুক পোস্টের সূত্রধরে রবিবার বিকালে ইউএনও শীতেষ চন্দ্র সরকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার ববি ও রহিমগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকারকে সাথে নিয়ে ভিক্ষুক মালেখা বেগমের বাড়িতে যান এবং তাকে ২ বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন। সেই সাথে তাকে জমি আছে ঘর নাই “খ” শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে ভূমিহীনদের ঘর আসার সাথে সাথে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাকে ঘর দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে উনার বাড়িতে যাই। ২ বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করি। উনার সাথে বিস্তারিত আলোচনা করি। মালেখা বেগমের ভাষ্যমতে উনার ২.৫ শতাংশ জমি আছে। তিনি একজন ‘খ’ শ্রেণীর ভূমিহীন। বর্তমানে ‘ক’শ্রেণীর ভূমিহীনদের গৃহ প্রধান কার্যক্রম চলমান থাকায় এবং”জমি আছে ঘর নাই” ‘খ’ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়,ভবিষ্যতে ‘খ’ শ্রেণীর ভূমিহীনদের ঘর আসার সাথে সাথে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাকে ঘর দেওয়া হবে। অসহায়, বিপন্ন মানুষের পাশে সদা সর্বদা আছি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মালেখা খাতুনের জন্য অধিকতর সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে।