প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ : ত্রিশালে সব হারিয়ে ঘর পেলেন গৃহহীন ফজিলা খাতুন

ফারুক আহমেদ,ত্রিশাল :
স্বামী-সন্তান ভিটেমাটি সব হারিয়ে অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জমি আছে ঘর নাই, নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ, আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ঘর পেলেন সত্তুরোর্ধ্ব ফজিলা খাতুন। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে যেন আনন্দে আত্মহারা ওই বৃদ্ধা নারী। প্রকল্পটি সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে কাজ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকির।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তালিকা ও উপকার ভোগিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নায়েবদের মাধ্যমে যাচাই বাচাই করে যাদের জমি ছাড়া কিছুই নেই, সেইসব প্রকৃত অসহায় পরিবারের মাঝে এক লাখ টাকা খরচ করে টিনসেট ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দু’হাত তুলে প্রধানমন্ত্রী ও সহযোগি সবার জন্য দোয়া করছেন সর্বক্ষণই।

১৯৯৮ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাগামারা নামকস্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ফজিলার চার সন্তান ও স্বামী আবদুল বারেক। ওই দুর্ঘটনায় নিজেও আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পাগল প্রায় ওই নারী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফেরার পর স্থানীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিৎিসাধীন ছিলেন প্রায় দুই বছর। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে স্বামীর বাড়ি উপজেলার গোলাভিটা গ্রামে ফিরে দেখেন ডায়রিয়া জনিত কারনে তার বাকী দু-সন্তানও মারা গেছে। স্বামী-সন্তানহারা ফজিলার স্বামীর বাড়ীতে ঠাঁই না হওয়ায় ফিরে যান ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছলিমপুর গ্রামে বাপের ভিটায়।
নিন্মবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়ায় সেখানে অবন্থান করাতেও বাঁধা আসে। অনেক আগে স্বামীর টাকায় বাপের বসতবাড়ির পাশেই কিনেছিলেন দেড় শতক জমি। মানুষের কাছে হাত পেতে কিছু পুরাতন টিনের চাল আর পলিথিন ও প্লাস্টিকের বস্তায় ওখানে একটি ঘর উঠে। কোনদিন ভাগ্যে খাবার জুটত আবার কোনদিন না খেয়ে পরে থাকতে হত ফজিলাকে। এক সময় বাধ্য হয়েই বেছে নিয়েছিলেন ভিক্ষাবৃত্তি। ভিক্ষা করতে ভাল না লাগায় বেছে নেন ভিন্নপথ। প্রতিদিন ত্রিশাল বাজারে গিয়ে মিষ্টির দোকান থেকে খালি দইয়ের পাতিল কুড়িয়ে আনেন। সেগুলো ভালভাবে পরিস্কার করে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করেন চালের বিনিময়ে। যা পান তা দিয়ে কোন রকমে দিন চলে যায় তার। ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ আমিনের পরামর্শে আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জমি আছে ঘর নাই, নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ, আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ঘরের জন্য। এরপর ওই ইউনিয়নের নায়েব ও উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সরেজমিন যাচাই-বাছাইয়ের পর ঘর পান ফজিলা।
জানা যায়, ‘জমি আছে ঘর নাই, নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ, আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১৫৭ টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর নির্মান কাজের মধ্যে ৮০টি পরিবার বর্তমানে নতুন ঘরে বসবাস করছেন। উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের এক কোটি ৫৭ লাখ টাকায় ১৫৭ টি অসহায় দিনমজুর ও ভিক্ষুক পরিবারকে ওই সুবিধা দিতে প্রকল্পটি সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে কাজ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাকির। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তালিকা ও উপকার ভোগিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নায়েবদের মাধ্যমে যাচাই বাচাই করে যাদের জমি ছাড়া কিছুই নেই, সেইসব প্রকৃত অসহায় পরিবারের মাঝে এক লাখ টাকা খরচ করে টিনসেট ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি ঘর তৈরি হচ্ছে দৈর্ঘ্য ১৬ ও প্রস্থ ১৫ ফুট করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল জাকির বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জমি আছে ঘর নাই, নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ, আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর কর্মসূচীর আওতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তালিকা ও আবেদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নায়েবদের মাধ্যমে যাচাই বাচাই করে যাদের জমি ছাড়া কিছুই নেই, সেইসব প্রকৃত অসহায় পরিবারের মাঝে এক লাখ টাকা খরচ করে টিনসেট ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৫৭ টির মধ্যে ৮০টি পরিবার নতুন ঘরে বসবাস করছেন।
ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মতিন সরকার বলেন, দেশরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া গৃহহীনদের ঘর নির্মানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা সরেজমিন গিয়ে প্রকৃত গৃহহীনদের ঘর দিয়েছেন। এতে উপজেলার ১৫৭টি অসহায় দরিদ্র পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।