পুঁজিবাজার গতিশীল হচ্ছে , ফিরেছে বিনিয়োগের পরিবেশ

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিবেশ ফিরেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে। তাছাড়া বাজারে বিনিয়োগকারীদের যে আস্থার সংকট ছিল, তা ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে। বাজার গতিশীল হচ্ছে।

এছাড়া আরো ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বাজারে টেকসই উন্নতি হবে বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বিএসইসিতে নতুন চেয়ারম্যান যোগ দেওয়ার পর বেশকিছু বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করছে- তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এটি ভালো উদ্যোগ। একই সঙ্গে সরকারি ও মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার চেষ্টা করছে তারা।

তিনি বলেন, বিএসইসির একার পক্ষে সরকারি ও মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি বাজারে আনা সম্ভব নয়। এজন্য এনবিআর, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় দরকার। সবার সমন্বিত চেষ্টায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বাজারের উন্নতি অব্যাহত থাকবে। নতুন নতুন বিনিয়োগ বাজারে আসবে।

এছাড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সঙ্গে নতুন কমিশনারদের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাজারে গতি ফিরতে শুরু করেছে। নতুন কমিশনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কমিশনের নানা ইতিবাচক উদ্যোগ, স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কমিশনের সমন্বয়, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যাংকের সুদ হার কম থাকায় পুঁজিবাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়ছে। বর্তমানে তারল্য সংকট নেই। দিন দিন বাড়ছে লেনদেন। আস্থা বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগের পরিবেশও ফিরেছে।

এদিকে, বিএসইসির নতুন কমিশন সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অনিয়মের কারণে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে শাস্তি ও অর্থ দণ্ড দিয়েছে। এছাড়া ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিকে বাজারে আনতে কাজ করে যাচ্ছে বিএসইসি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য আইন প্রয়োগ করে যাচ্ছে বিএসইসির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি বিষয়ে উদ্যোগ, যেসব কোম্পানির পরিচালকদের আইন অনুযায়ী শেয়ার ধারণ নেই, তাদের বিষয়ে উদ্যোগসহ যা কিছু করছে সেগুলো ইতিবাচক।

তিনি আরও বলেন, ওয়ালটনসহ বেশকিছু মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্তি করতে যাচ্ছে কমিশন। এছাড়া সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোডের চেষ্টা কমিশন অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে শুধু আইপিও নির্ভরশীল না হতে বেশকিছু বন্ডের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে ব্যাংকের বিকল্প হিসেবে মানুষ পুঁজিবাজারের দিকে ধাবিত হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, নতুন কমিশন স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে, এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রদর্শিত অর্থ বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যাংকের সুদ হার কম থাকায় পুঁজিবাজারে অর্থ সরবরাহ বাড়ছে। এতে লেনদেন বাড়ছে।