পঞ্চম দিনের মতো কঠোর বিধিনিষেধ চলছে

সরকার ঘোষিত ৭ দিনব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধের পঞ্চম দিন আজ সোমবার (৫ জুলাই)। করোনার সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছেন পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা। লকডাউনের শুরু থেকেই বিভিন্ন জায়গায় টহল দিতে দেখা গেছে তাদের। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অযৌক্তিক কারণে কেউ বাইরে বের হলে গত তিন দিনের মতো রবিবার চতুর্থ দিনেও ভ্রাম্যমাণ আদালত গ্রেফতার ও জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিতরা পরিচয়পত্র দেখানো ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তল্লাশির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে, তারা তাদের গন্তব্যে বা কর্মস্থলে যেতে পারছেন।

কঠোর বিধিনিষেধের চতুর্থ দিনে অযৌক্তিক কারণে বাইরে বের হয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ানোর অভিযোগে ৬১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। রবিবার (৪ জুলাই) বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৬১ জনকে ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ডিএমপি ট্রাফিক কর্তৃক ৪৯৬টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করে ১২ লাখ ৮১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পাশপাশি সারাদেশে ৪৩৮ জনকে ৪ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করেছে র‍্যাব। দেশব্যাপী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন-র‌্যাবের ১৫টি ব্যাটেলিয়নের অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এই জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ৫৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লকডাউনের চতুর্থ দিনে দেশব্যাপী বিধিনিষেধ অমান্য করায় এই জরিমানা করা হয়। সারাদেশে র‌্যাব ১৮৭টি টহল ও ২১১টি চেকপোস্ট পরিচালনা করছে। এ ছাড়া র‌্যাবের পক্ষ থেকে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয় বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সম্প্রতি করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় সর্বাত্মক কঠোর বিধিনিষেধের নির্দেশনা জারি করে সরকার। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হলে মাস্ক পরে এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরার কথাও বলা হয় নির্দেশনায়। তা ছাড়া চলমান কঠোর বিধিনিষেধে বন্ধ আছে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সব অফিস।