নেপালকে হারিয়ে সাফের ব্যর্থতা ঘোচাল বাংলাদেশ

১০ মাস পর শুক্রবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরেই ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে আলো ছড়াল বাংলাদেশ ফুটবল দল। শেষ পর্যন্ত নাবীব নেওয়াজ জীবনের নৈপুণ্যে নেপালকে ২-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যর্থতা ঘোচাল লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।

শুক্রবারের জয়ে নেপালের বিপক্ষে আগের তিন হারের একরকম প্রতিশোধও নিয়েছে বাংলাদেশ। এরআগে ২০১৩ ও ২০১৮ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের কাছে দুবারই ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। গত বছর এসএ গেমসে হারে ১-০ গোলে।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুক্রবার মুজিববর্ষ ফুটবল আন্তর্জাতিক সিরিজের প্রথম প্রীতি ম্যাচের ১০ম মিনিটে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের প্রথমার্ধে এগিয়ে দেন জীবন। এদিকে দ্বিতীয়ার্ধে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের ব্যবধান দ্বিগুন করেন মাহবুবুর রহমান সুফিল।

করোনাভাইরাসের কারণে গত দশ মাস কোন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই শুক্রবার নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি স্বাগতিকদের কাছে আলাদা গুরুত্ব পায়। এজন্য সবাই অবশ্য জয় ছাড়া ভিন্ন কিছু চিন্তা করেনি। মাঠের ফুটবলে এদিন সেই ছাপই রেখেছেন জামাল ভুঁইয়ারা। শেষ পর্যন্ত জেমি ডের শিষ্যরা সফলও হয়েছে।

জাতীয় দলের হয়ে এই ম্যাচে অভিষেক হয়েছে গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো ও ফরোয়ার্ড সুমন রেজার। তাদের নিয়ে শুক্রবার ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। এ সুযোগে ম্যাচের ৫ম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সুমন রেজা বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সে সময় পারেনি দলটি। তবে ম্যাচের ১০ম মিনিটে আর মিস করেননি জীবন। সে সময় সাদ উদ্দিনের পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে সমর্থকদের আনন্দে ভাসান তিনি।

পেছনে পড়ার পর নেপাল সমতায় ফেরার চেষ্টা করে। এ সুবাদে অতিথিরা পায় টানা দুই কর্ণার পায়। কিন্তু ভয় জাগাতে পারেনি বাংলাদেশি শিবিরে। ১৭ মিনিটে নেপালের অনন্ত বিস্টা ফাঁকায় বল পেয়ে শট করলেও গোলমুখে রাখতে ব্যর্থ হোন।

নেপাল আক্রমণ করলেও দমে যায়নি বাংলাদেশ। উল্টো দলটির বিপক্ষে সমান তালে লড়াই করে দলটি। সে সুবাদে ম্যাচের ২৩ মিনিটে বিশ্বনাথের থ্রো থেকে ভালো সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। তবে ডি বক্সে থাকা তপু বর্মণের হেড গোলপোস্টের বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর সুযোগ পেয়েছিলেন মানিক মোল্লা। কিন্তু নেপাল অধিনায়ক ও গোলরক্ষক কিরণ অসাধারণ সেই জোরালো শট কর্ণারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন। এদিকে ৩২ মিনিটে সহজ একটি সুযোগ মিস করেন প্রথমার্ধের একমাত্র গোলস্কোরার জীবন। সাদ উদ্দিনের ক্রস ফাঁকায় পেলেও সময় না নিয়ে ভলিতে জালে জড়াতে গিয়ে সহজ সুযোগ মিস করেন ৯ নাম্বার জার্সিধারী এই ফুটবলার।

পরপর একাধিক সুযোগ মিসের কারণে প্রথমার্ধের শেষ দিকে কিছুটা ডিফেন্সিভ হয়ে খেলে বাংলাদেশ। নেপাল আক্রমণ করার চেষ্টা চালালেও সেগুলো শক্তশালী ছিলো না। যে কারণে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

বিরতির পর কিছুটা স্লো খেলে বাংলাদেশ। এ সুযোগে নেপাল আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। তবে দলটিকে গোলের দেখা পেতে দেয়নি স্বাগতিক গোলরক্ষক। এরমধ্যে নিজেদের আক্রমণের গতি ফিরে পায় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত এর সুফল দলটি পায় ম্যাচের ৭৯ মিনিটে। সে সময় দারুণ এক সলো গোলে ব্যবধান ২-০ করেন মাহবুব। শেষ পর্যন্ত এ ব্যবধানে নেপালকে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।