নাকের গয়নার নানা গল্প

নাকের নানা ধরনের গয়না হয়, আর তার সবগুলোকেই কিন্তু নাকছাবি বলে না! বহু পুরোনো নকশার নাকের গয়নাও ইদানীং জনপ্রিয় হয়েছে, প্রাদেশিক অলঙ্কারও পরেন অনেকেই। যারা দুর্দান্তভাবে নাকের গয়না ক্যারি করেন অনেকে। তবে প্রাচীন ভারতে নাকের গয়না তেমন চালু ছিল না, খুব পুরোনো বইপত্রে তার উল্লেখ পাওয়া যায় না। মোটামুটি মধ্যযুগ থেকে অবশ্য নথ, মাকড়ি, বোন্দা, বেসর, নোলক ইত্যাদি নানা প্রকারের ব্যবহার চালু হয়। মেয়েদের বামদিকের নাকে অলঙ্কার পরাটাই দস্তুর। আগেকার দিনে সাধারণত বিশেষ বিশেষ কারণেই কেবল শিশুর ডান নাকে ফুটো করা হত, ইদানীং অবশ্য সে সব বিধিনিষেধ উঠে গিয়েছে।
নাকছাবি বা নাকফুল: পরা সবচেয়ে সহজ, নানা আকারের হয়। একটা সরু ডাঁটি বা বাঁকানোর প্যাঁচের আগায় থাকে ছোট্ট পাথর বা সামান্য নকশা বসানোর জায়গা। সোনা বা রুপোর হতে পারে, দামী হিরে, চুনি, পান্না বা মুক্তো বসানো হয়। আজকাল আদিবাসী নকশার অনুপ্রেরণায় বড়ো বড়ো রুপোর নাকছাবিও তৈরি হচ্ছে, এমন গয়নাকে আগেকার দিনে বলা হত নাকপাশা।

নথ: বিয়ের দিনে নথ পরার দস্তুর চালু আছে আজও। নথ সাধারণত বেশ বড়ো আকারের হয়, নাকের ছিদ্র দিয়ে ঢুকিয়ে বঁড়শির মতো আঁকড়ায় আটকে দেওয়া হয়। বড়ো ফাঁদের নথে পলা, মুক্তো, হীরা লাগানোর চল আছে, অনেক সময় ভার সামলানোর জন্য নথের সঙ্গে সরু চেন লাগানো হয় এবং তা আটকে দেওয়া হয় চুলের খোঁপায়। ঝুমকো দোলানো নথকে বলা হয় ঢেঁড়ি নথ। পশ্চিম ভারতের বিবাহিতা মেয়েরা খুব ভারী নথ পরতে অভ্যস্ত, আজকাল অবশ্য তা কেবল উৎসবের দিনেই পরা হয়।

বেসর ও নোলক: এইদু’টিই পরা হয় নাকের ডাঁটিতে। বেসরে কারুকাজের পরিমাণ চোখ টানে। নোলক সাধারণত ছোট মেয়ে বা কম বয়সের বউয়েরা পরে। নোলকের ঠিক মাঝে ছোট কুন্দফুল বা একটি ঝালর লাগানো হয় সাধারণত।

মাকড়ি: মাকড়ি নথের ছোট সংস্করণ, তবে মাকড়িতে নানা ধরনের কারুকাজ থাকতে পারে। মরাঠি মহিলারা যে নথ পরেন, তা-ও এক প্রকার কারুকাজ করা মাকড়িই বটে।

কী, এত রকম গয়না থাকলেও আপনার নাকে ফুটো নেই বলে মন খারাপ করছেন নাকি? চিন্তা করবেন না, ইদানীং নানা নকশার চমৎকার সব টেপা নাকছাবি পাওয়া যায়, স্বচ্ছন্দে তেমন কিছু একটা কিনে পরতে পারেন!