নভেম্বরেও খুলছেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী নভেম্বর মাসেও না খোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ফলে আরেক দফা বাড়তে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির মেয়াদ।

বুধবার ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এই ইঙ্গিত দেন।

সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান।

আসন্ন শীতকাল নিয়ে দেশের অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ মহলের পরামর্শ রয়েছে এ কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কোভিড-১৯ বিষয়ক যে জাতীয় পরামর্শক কমিটি রয়েছে তাদের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন, তা অনেকে মানছে না, ঝুঁকি কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যে ঝুঁকিটুকু নেয়া সম্ভব হবে বলে মনে হবে এবং সে রকম একটা অবস্থায় যদি পৌঁছানো যায় তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে।’

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে সংক্রামণের যে অবস্থা তাতে যেখানে যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছিল তাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চলতি বছরে মাধ্যমিকের স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থী পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তবে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করা যায় এমন সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এই সিলেবাস অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের প্রতি সপ্তাহে একটি অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। শিগগিরই এনসিটিবির ডিজাইন করা সিলেবাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যাবে।

দীপু মনি বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট নেয়া হবে শিক্ষার্থীর শিখন ফলের ঘাটতি বুঝে পরবর্তী ক্লাসে রেমিডিয়াল ক্লাস নেয়ার জন্য। অ্যাসাইনমেন্টের ওপর ভিত্তি করে প্রমোশন হবে না। অ্যাসাইনমেন্ট নেয়া হবে শিক্ষার্থীর শিখন ফল জানার জন্য, যাতে পরবর্তী ক্লাসে রেমিডিয়াল ক্লাস নিতে সুবিধা হয়। মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থী পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হবে। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। একমাত্র কওমি মাদ্রাসা খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে সবশেষ আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আরেক দফা বাড়তে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির মেয়াদ।

এদিকে শীতে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।