দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন শুরু হবে মার্চে

মো: রাসেল হোসেন : মার্চের শেষ সাপ্তাহ থেকে দেশের সর্ববৃহত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে উপপাদন শুরু হবে। ময়মনসিংহের সুতিয়াখালির চরাঞ্চলে দেশের সর্ববৃহৎ পরিবেশবান্ধব ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অধিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলার সুতিয়াখালির চরাঞ্চলে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ উদ্যোগে এইচডিএফসি সিনপাওয়ার লিমিটেড এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ১৭৪ একর জমি ওপর ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে ব্যবহৃত বিদ্যুতের শতকরা দশ ভাগ সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৭ সালে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘সুতিয়াখালি ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত প্রকল্প’ নামে কাজ শুরু করা হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, প্রকল্পের গোটা এলাকাজুড়ে সোলার বসানোর পিলআরসহ যাবতীয় কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প এলাকা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইনের কাজ চলছে পুরোদমে। এখন শুধু সোলার প্লেট বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। এসব কাজে জড়িত চীনা প্রকৌশলীরা ছুটিতে দেশে যাওয়ায় সোলার প্লেট বসানো ও সংযোগ প্রদানের কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে।
এইচডিএফসি সিনপাওয়ার লিমিটেডের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ মো: শফিকুল ইসলাম পিএসসি (অব.) জানান, সরকারের সব নিয়মনীতি অনুসরণ করে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশে চলমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় ও মেগা প্রকল্প। পরিবেশবান্ধব এই বিদ্যুৎ প্রকল্পে আগামী মার্চের শেষ সপ্তাহে উৎপাদন শুরু করার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের সাথে জড়িত চীনা প্রকৌশলীরা জানুয়ারীতে বর্ষবরণ করতে দেশে গেছেন। করোনাভাইরাসের কারণে তাদের আসতে দেরী হওয়ায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনও বিলম্বিত হতে পারে।
তিনি আরো জানান, প্রকল্পটির কারণে স্থানীয়ভাবে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের সুফল পাবে ময়মনসিংহের মানুষ। বর্তমানে দেড় শতাধিক স্থানীয় ব্যক্তি এখানে কাজ করছেন। আশপাশের জমিজমার মূল্য বেড়ে গেছে।
এক প্রশ্নে জবাবে তিনি জানান, জমি নিয়ে এখনো যদি কারো কোনো আপত্তি থেকে থাকে তবে যথাযথ দলিল উপস্থাপন করলে যথারীতি মূল্য পরিশোধ করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক ও পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দ্রজিৎ দেবনাথ জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা কথা রয়েছে। এখানে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালী জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। এর মধ্যে এক কিলোমিটার যাবে টাওয়ারের মাধ্যমে। বাকি চার কিলোমিটার যাবে মাটির নিচ দিয়ে। ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রকৌশলীদের সাথে বিদেশি প্রকৌশলীরাও নিয়োজিত রয়েছে।
তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ হচ্ছে গ্রীণ এনার্জি। যা দেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, উৎপাদন খরচ প্রাথমিকভাবে একটু বেশি অর্থাৎ ১০ থেকে ১৩ টাকা হতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে এর উৎপাদন খরচ খুবই কম হবে। বায়ু দূষণ হবে না। পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার জানান, এখানে কোনো ফার্নেস ওয়েল বা ফুয়েল লাগবে না। আল্লাহ প্রদত্ত জ্বালানি সূর্যের আলো থেকেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এটাই সোলার প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট।