দলে দলে কাবুলে ঢুকছে আইএস-জইশ-লস্কর জঙ্গিরা

82

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস। মাওয়ের এই কুখ্যাত উক্তি কার্যত সত্যি প্রমাণ করেছে তালিবান। আফগানিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু তা যে মরীচিকা ছিল তা এখন স্পষ্ট। ২০ বছর ধরে আফগান মুলুককে ‘পুনর্গঠন’ করার আমেরিকার প্রচেষ্টাকে ধুলোয় মিশিয়ে ‘কাবুলিওয়ালার দেশ’ এখন ‘ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান’। এহেন পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, কাবুলে প্রবেশ করেছে ইসলামিক স্টেট, আল কায়দা, জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তইবার জঙ্গিরা। আর তাদের কার্যত জামাই আদরে স্বাগত জানিয়েছে তালিবান নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন। ফলে ভারতের চিন্তা বাড়িয়ে শক্তিবৃদ্ধি করতে চলেছে ইসলামিক স্টেট। এমনটাই আশঙ্কা।
গোটা বিশ্বের উদ্বেগ বাড়িয়ে জানা গেছে, তালিবানের পতাকা হাতে নিয়ে কাবুলের বেশকিছু জায়গায় আসর জমিয়েছে বিদেশি জেহাদিরা। তাদের মধ্যে রয়েছে আইএস, লস্কর, আল কায়দা ও জইশের সদস্যরা। এবং এই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির রাশ সেই অর্থে তালিবান নেতাদের হাতে নেই। ফলে সংগঠনগুলি বর্তমানে একজোট থাকলেও নিকট ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকছে। আর তেমনটা হলে কাবুল যে ফের রক্তাক্ত হবে সেই কথা বলাই বাহুল্য। আমেরিকার সঙ্গে তালিবানের শান্তিচুক্তি অনুযায়ী, আফগানিস্তানের মাটিতে কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীকে কাজ করতে দেওয়া হবে না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে কাবুল তথা দেশের মাটি থেকে উচ্ছেদ করার কথা। দোহায় তালিবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা একজন আফগান মানবাধিকার কর্মী বলেন, আগামী কয়েকদিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, তালিবান নেতৃত্বের আদেশ লঙ্ঘন করে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি তাদের নিজস্ব অভিযান শুরু করতে পারে। তাই দেশের মাটিতে বিদেশি জঙ্গিদের জোট বাঁধা এবং ক্ষমতাধর হয়ে ওঠা রুখতে তালিবান নেতৃত্ব কতটা তৎপরতা দেখায়, সেটাই বড় প্রশ্ন।

জানা গিয়েছে, তালিবানের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা ইয়াকুব কাবুলে এসেছে। সে তালিবান বাহিনীর ‘চিফ অফ অপারেশনস’। কাবুল-সহ গোটা দেশে তালিবান নেতৃত্ব সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করাই তার পরবর্তী কাজ। সামরিক বাহিনী তাদের সামরিকভাবে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করলে এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে তালিবানের সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কাবুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রথম পর্যায়ে তালিবানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস বা দায়েশ, জেইএম এবং এলইটি-র মতো সংগঠনের প্রভাব খর্ব করতে তালিবান কী ভূমিকা নেয়, সে দিকেও নজর রাখবে আন্তর্জাতিক মহল।
এদিকে, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের কথা ঘোষণা করেনি তালিবান। তবে আফগানিস্তান যে ইসলামিক অমিরশাহী হয়ে ওঠবে তা স্পষ্ট। তবে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের কথা বলেছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি। এই বিষয়ে দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, আফগান নেতা অবদুল্লা অবদুল্লা ও ‘ওয়ারলর্ড’ তথা প্রাক্তন মুজাহিদ নেতা গুলবুদিন হেকমতিয়ারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে তালিবান। মঙ্গলবারই কাতারের রাজধানী দোহা থেকে দেশে ফিরেছে তালিবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবদুল ঘানি বরাদর। তবে কাবুল বিমানবন্দর এখনও আমেরিকার হাতে থাকায় আরও তালিবান নেতাদের দেশে ফেরে কিছুটা দেরই হচ্ছে। সবমিলিয়ে, এই মুহূর্তে কবুলয়ে বিরাজ করছে চরম অনিশ্চয়তা।