ত্রিশালে লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে প্রশাসন, প্রথম দিনে ১৩ মামলায় জরিমানা

এইচ,এম জোবায়ের হোসাইন :
প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সাতদিনের জন্য সারাদেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। লকডাউন কার্যকর করতে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয় দিনভর। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে চলছে অভিযান। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই লকডাউন চলবে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বেশ কয়েকটি সড়ক ঘুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের চিত্র দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় কাউকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। জুরুরী প্রয়োজনে যারা বের হচ্ছেন যৌক্তিক জবাব দিতে পারলেই তাদেরকে গন্তব্যে যেতে দেওয়া হচ্ছে। না হয় ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সবাইকে। প্রথম দিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ছিল ফাঁকা, ছিলনা কোন গণপরিবহন।
বৃহস্পতিবার ত্রিশাল উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ত্রিশাল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তরিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাঈদুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম আরিফের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতকল্পে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা চলছে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ১৫টি মামলায় জরিমানা আদায় করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মাস্ক পরিধান না করে বাইরে বের হওয়া, কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাইরে বের হওয়া, অননুমোদিত দোকান খোলা রাখা, অননুমোদিত যানবাহন চালাচল, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা, চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হচ্ছে। মোবাইল কোর্টে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ত্রিশাল থানা পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার সহায়তা প্রদান করেন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ও বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।