ত্রিশালে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষিত কিশোরী প্রায় ৮ মাসের অন্তঃসত্তা

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
গ্রামের সহজ সরলা অবলা কিশোরী খপ্পরে পড়েছিলেন এক প্রতারক প্রেমিকের। অবুঝ ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক প্রেমিক কেড়ে নেয় তার নারীসত্তা। কিছু বুঝে উঠার আগেই ৫ মাসের অন্তঃসত্ত¡া হয়ে যায় কিশোরীটি। এরপর বিয়ের জন্য চাপ দিলে চতুর প্রেমিক শেষবারের মতো যৌনমিলনের পর প্রেমের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। উপায়হীন হয়ে কিশোরী ঘটে যাওয়া বিষয়ে তার পরিবারকে জানালে স্থানীয়দের নিয়ে দেন-দরবারের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে প্রতারক প্রেমিক ও তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের বনপাথালিয়া গ্রামে। পরে গত ৬ অক্টোবর কিশোরীর বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের বনপাথালিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম। পেশায় একজন অটোচালক। রফিকুল ও ফরিদা আক্তার দম্পত্তির ছিল না অক্ষরজ্ঞান। নিজেরা শিক্ষার আলো না দেখলেও একমাত্র মেয়েকে সেই আলোয় আলোকিত করতে চেয়েছিলেন। ঝড়ের কবলে পড়ে, সব স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়। স্থানীয় দড়ি কাঁঠাল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়–য়া তার একমাত্র অবলা কিশোরী মেয়েটি পাশের বাড়ির আবু হাসান শাহরিয়ার সুমন নামে এক প্রতারক প্রেমিকের খপ্পরে পড়ে। অবুঝ ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক প্রেমিক কেড়ে নেয় তার নারীসত্তা। দুই বছরের প্রেমের সম্পর্কে, কিছু বুঝে উঠার আগেই আনুমানিক ৫ মাসের অন্তঃসত্ত¡া হয়ে যায় কিশোরীটি।
কিশোরীটি তার প্রেমিক সুমনের কাছে সবকিছু জানিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে, বিয়ে করবে বলে চতুর প্রেমিক শেষবারের মতো গত ২৫ সেপ্টেম্বর যৌনমিলনে লিপ্ত হয়। ওইদিনের পর প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সাফ সাফ অস্বীকার করে। উপায়হীন হয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়ে তার পরিবারকে জানায় কিশোরী। কিশোরীর পিতা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন কামালসহ স্থানীয়দেরকে বিষয়টি অবগত করেন। দেন-দরবারের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে প্রতারক প্রেমিক ও তার পরিবার। পরে গত ৬ অক্টোবর কিশোরীর বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ত্রিশাল থানায় একটি মামলা করেন। এক মাস অতিবাহিত হলেও প্রতারক প্রেমিককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার উপযুক্ত শাস্তি ও বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রফিকুল।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিষয়টি সমাধানে ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন কামালের কোন তৎপরতাই নেই। কারন সামনে নির্বাচন। অসহায় এক ব্যক্তির জন্য বৃহৎ ভোট থেকে বঞ্চিত হতে চান না তিনি। তাছাড়া প্রতারক প্রেমিক সুমনের এক আত্মীয় ও তার পরিবারের এক সদস্য পুলিশে চাকরি করেন তবে ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন কামাল জানান, আমি দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সমস্যার সমাধান আমার নিয়ন্ত্রনের বাইরে।
অটোচালক রফিকুল ইসলাম জানান, সবকিছু জানবার পরে আঙ্গর চেয়ারম্যান, গেরামের মুরুব্বি গরে জানাইছি। হেগোর অনেক ক্ষমতা, টেকা দে-আ সবার মুক বন্ধ কইরা দে। ছেরা বেয়া করত না। বাদে আমি এক মাস আগে থানায় গে-আ মামলা করছি। অহনো পুলিশ ওই পোলারে ধরবার পারে নাই। আর ধরবার পাইলে বুলে কি টেস করাইবো। ওইনো যুদি টেহা দেআ উল্ডাপাল্ডা করইরা ফেলা, তহন আমার ছেরির কি ওইবো।
জমিজমা বা কোন পূর্ব শত্রæতা নেই স্বীকার করে সুমনের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার ভাইয়ের সঙ্গে ওই প্রেমের সম্পর্ক হয়নি। জিদ করে আমার ভাইয়ের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রæত সময়ের মধ্যে ধরতে সক্ষম হবো।