ত্রিশালে গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে ২৮০ ফুট কংক্রিটের সেতু নির্মাণ

ফারুক আহমেদ :
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ধানীখোলা দক্ষিণ ভাটিপাড়া ও বইলর বাঁশকুঁড়ি গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে ২৮০ ফুট কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
গ্রামে সুতিয়া নদীর ৫ কিলোমিটারের দূরবর্তীতে সেতু থাকলেও তার মধ্যবর্তী এলাকার বসতিরা পড়েছিলেন বেকায়দায়। দীর্ঘদিন কলাগাছের ভেলা আর বাঁশের সাঁকোই ছিল নদী পারাপারে তাদের একমাত্র ভরসা। সরকারি অর্থায়নে সেতু নির্মাণে কোন সহায়তা না পেয়ে স্থানীয়দের সেচ্ছাশ্রম আর নিজস্ব অর্থায়নে নদীটির ওপর নির্মিত হয় ২৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি সেতু।
বিরল ওই দৃষ্টাটি স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটিপাড়া ও বইলর ইউনিয়নের বাঁশকুঁড়ি গ্রামের বাসিন্দারা। সেতুটির নির্মাণ কাজ ২০১৯ইং সালের প্রথম দিকে শুরু হলেও শেষ হয় সাম্প্রতিক সময়ে।
উপজেলা সদরের ওপরদিয়ে বয়ে গেছে সুতিয়া নদী। সুতিয়ার দুইপাড়েই রয়েছে বহু স্কুল, কলেজসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। নদী পারাপারে উপজেলা পরিষদ ও থানার মধ্যবর্তীস্থানে আছে একটি সেতু। অপরদিকে সুতিয়ার উজানে ধানীখোলা ইউনিয়নের ধানীখোলা বাজারে প্রবেশপথে আছে আরেকটি সেতু।
ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে ধানীখোলা বাজারের দুরত্ব ৫ কিলোমিটার। এতে করে স্কুল, কলেজসহ সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তার মধ্যবর্তী এলাকার বইলর বাঁশকুঁড়, মুন্সিপাড়া, আংরার চর, চরপাড়া ও বকশিপাড়া গ্রামের বসতিরা পড়ত চরম বেকায়দায়। ওইসব এলাকার লোকজন স্কুল, কলেজসহ সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরসমূহে আসতে চাইলে অতিরিক্ত আরো ৬ কিলোমিটার ঘুরতে হতো। সময় ও খরচ বাঁচাতে দীর্ঘদিন কলাগাছের ভেলায় চড়ে নদী পার হতেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। তারপর সেচ্ছাশ্রমে বাঁশের পর কাঠের সাঁকো তৈরি করে তা ব্যবহার করা হয় দীর্ঘদিন। কিন্তু প্রতিবছরই তা সংস্কারের প্রয়োজন হত। বছর বছর সাঁকো সংস্কারে দেখা দেয় নানাবিধ সঙ্কট।
এরপর একটি দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনায় ঐক্যমত হন ওই অঞ্চলের সুতিয়ার দু’পাড়ের মানুৃষ। সরকারি অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করে তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের সেচ্ছাশ্রম আর নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মানের উদ্যোগ নেন তারা। ধানীখোলা ও বইলর ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গসহ অন্যান্যদের সাহায্য সহযোগিতায় উঠে ৬০ লাখ টাকা।

এই ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন ইনফিনিটি, লুবনান ও রিচম্যানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হক খাঁন, মশিউর রহমান শাহানশাহও দিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা এবং উপজেলা প্রশাসন প্রায় দুই লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
এর বাইরেও অনেকে কাজ চলাকালীন সময়ে ইট, বালু, রড, সিমেন্টসহ সেন্টারিংয়ের বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। অনেক প্রতিকুল অবস্থা অতিক্রম করে অবশেষে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীটির ওপর নির্মিত হয় ২৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের একটি সেতু।
এছাড়াও সেতুটি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে স্থানীয় নজরুল ইসলাম, চাঁন মিয়া, আবদুল মালেক, তাজুল ইসলাম, হারুন তালুকদার, আরিফ হোসেন সরকার, হাসিম তালুকদার, নয়ন তালুকদার ও মোহাম্মদ তালুকদার উল্লেখযোগ্য।

সেতু নির্মানের অন্যতম উদ্যোগতা ইনফিনিটি, লুবনান ও রিচম্যানের পরিচালক মনিরুল হক খান জানান, এখনো নূরী পাথর দিয়ে সেতুর ওপরের অংশে ঢালাই ও রঙের কাজ বাকী আছে। এতে ব্যয় হবে আরো আনুমানিক ৪ লাখ টাকা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে আংরার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা পাকাকরণ হয়েছে। আর মাত্র ৪৫০ মিটার রাস্তা পাকাকরণ হলে সেতু পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গতা পাবে।