ত্রিশালের ইমাম ও খতিবদের প্রতি রুহুল আমিন মাদানী এমপির খোলা চিঠি

এইচ. এম জোবায়ের হোসাইন :
প্রাণঘাতী নোভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) নামক মহামারী
প্রতিরোধে সরকারী নির্দেশ পালনের জন্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফেজ মাওলনা রুহুল আমিন মাদানী এমপি খোলা চিঠি দিয়েছেন। খোলা চিঠিটি ত্রিশাল উপজেলার সকল জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবদের উদেশ্যে চলমান
করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রকারের নির্দেশনা দিয়েছেন।
খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, মরণব্যাধি “করোনা” ভাইরাস এর প্রচন্ড আঘাতে সমগ্র বিশ্ব প্রকম্পিত। বাংলাদেশেও এর বিস্তার
ঘটেছে এবং রোগীর সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অদ্যাবধি এই
মহামারী রোগের কোন চিকিৎসা বের হয়নি। নিজ গৃহে অবস্থান এবং
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমেই এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
জনসমাগম এবং মানুষের ভিড় রোধ কল্পে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছেন। পরিস্থিতিজনিত করণে নিজ নিজ ঘরে নামাজ আদায়ের জন্য নির্দেশ জারী করেছে সরকার। তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সর্বোচ্চ ০৫ (পাঁচ) জন এবং জুম্মার নামাজে সর্বোচ্চ ১০(দশ) জন
জামায়াতে আদায় করতে পারবেন। অনুগ্রহ করে এই সংখ্যাটি আপনিই
নির্ধারণ করবেন। এই সিদ্ধান্ত সঠিক ও যথার্থ বলে দেশের ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পূর্ণ আলেম/উলামাগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
অন্যান্য ধর্মাবলম্বীগণও এই নির্দেশ পালন পূর্বক নিজ নিজ গৃহে
তাদের ধর্ম পালন করবেন।
সাংসদ রুহুল আমিন মাদানী লিখেন, আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আপনার কাছে আমার আকুল আবেদন এই
নির্দেশটি যাতে যথাযথভাবে পালিত হয় সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
গ্রহন করবেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে এই সংকটময় মূহুর্তে তাহাজ্জুদের সময় দোয়া করতে উদ্বুদ্ধ করবেন। তিনি নবী করিম (সা:)-এর
সূথ্র থেকে বলেন, “প্রতিরাতে তাহাজ্জুদের নামাজের সময় আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে এসে মানব জাতিকে ডাকেন, তোমরা যারা ক্ষমাপ্রার্থী, আমি ক্ষমা করে দিবো, যারা অভাবী, আমি রিজিক দিবো, রোগাক্রান্তকে রোগমুক্ত করে দিবো”। আল্লাহ রাব্বুল
আলামীন আমাদেরকে এই দূর্যোগ ও মহামারী থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের সহায় হোন।
তিনি ইমাম ও খতিবগণদের বলেন, আজানের পর এলাকাবাসীকে ঘর
থেকে বাহিরে না বের হয়ে, ঘরে থাকার জন্য মাইকে ঘোষনা দেওয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সতর্ক করারও আহবান জানান।