তুমি এলে তাই সন্ধ্যা নামলো- আসিফ ইকবাল আরিফ

11
তুমি এলে

***তুমি এলে তাই সন্ধ্যা নামলো***

মেঘের কোলে ঢলে পড়া রোদ
সিঁদুর রঙের রক্তিম সূর্যটা প্রায় ডুবতে বসেছে
সবুজ ছায়াতলে সন্ধ্যে নামছে ঝরনা ধারার মতো করে।
এই বুঝি তুমি এলে মেঘের নীলাচল বিছিয়ে
কুন্ত কেশের কালোমেঘে প্রেম মৃত্যুর দাবি নিয়ে।
মুহুর্তের কাঁপনেই সন্ধ্যে নামলো!
আমার ভেতরটা কাঁপছে মরি মরি জ্বরে!
এক যুগ! ঠিক এক যুগ পরে তুমি এলে
ঠিক এতোদিনের অপেক্ষাতে আবার নামলো সন্ধ্যে এমন করে।
এতোদিনে তুমি আসোনি বলে সন্ধে নেমেছে রাতের মতো করে;
ঠিক যেনো নিশ্চুপ রাতের কালোর মতো করে
আর পালিয়েছে চুপিসারে আমার আঙিনা থেকে।
তুমি ছিলেনা বলে শালিকের ঘরে ফেরা ছিলো না,
বাশবাগানের তলে বকের সাদা পালকও খসে পড়তো না,
নদীর তীর বেয়ে তড়িঘড়ি তালে ঘরে ফিরতো না হাঁসের পাল,
মোল্লা বাড়ির কুকুরের পালের ছিলো না শেয়াল তাড়াবার দুর্বার প্রস্তুতিও।
এতোদিন তুমি ছিলে না বলে
সন্ধ্যের রাঙাতে রাঙা বধুর মুখ জুড়ে থাকতো ঘোর অমাবস্যা!
তালতলে বাবুই পাখির মরণ কান্না লেগেই থাকতো,
মধ্যবয়সী বউয়ের কলসে উঠতো না রাতের জল।
তুমি ছিলে না বলে চায়ের স্বাদটা ছিলো শুধুই তেতো রস!
তুমি ছিলে না বলে মসজিদের আযান বাজতো খুব নীরবে,
মন্দিরের ঘন্টা বাজতো বিরহী সুরে – আল্লাহ অথবা ভগবান
নিশ্চুপ বিরহে প্রার্থণা নিতো খুব গোপনে।
তুমি আসার পরে যেনো সব বদলে গেছে।
নদীভরা জল উপচে পড়ছে
ডুবন্ত সূর্যটা যেনো গাঁয়ের সব রাঙা বধুর
সিঁদুরের লাল ধার করে লালে সেজেছে,
সবুজঘাসের ডগা হেলেদুলে নাচছে,
হেলেঞ্চা গাছে যৌবন ফিরেছে আবার।
তুমি এলে তাই শালিকের পাল মেতেছে সুর লহরী তালে,
সাঝের মায়ার নৃত্যে মরিয়া মাচার উপরের টুনটুনির দলও।
শুধু তুমি এসেছো বলে
কদমতলা ভরে গেছে কোকিলের খসে যাওয়া পালকে,
বধুর কলস ভরে উঠেছে যৌবনের জল,
আর বাবুই পাখির বাসা হয়েছে স্বর্গরাজ্যের মধ্যমণি।
তুমি এসেছো বলে
মসজিদের আযান ছড়িয়ে পড়েছে শেষ প্রান্তের বাড়িটিতেও
মন্দিরের ঘন্টা বাজছে প্রার্থনার গানে।
শুধুই তুমি এসেছো বলে
আজ সব ভরে গেছে প্রাণছন্দে।
এতো পুলকের ক্ষণ নিয়ে তুমি এলে
বলো তো কি দেবো তোমাকে?
আমি আস্তাকুড়ের নষ্ট হৃদয়ের কবি
তোমাকে দেবার মতো কিইবা আছে আমার!
তুমি চাইলেই ঘুঘুর গানে সারিয়ে দিতে পারি
তোমার হৃদয়ের সব গোপন অসুখ,
বুলবুলির নাচে তোমাকে করতে পারি আরও বেশি চঞ্চল।
তুমি চাইলেই
টিয়ার ঠোঁটের অসহ্য লালে রাঙাতে পারি তোমার ঔষ্ঠ।
কলাপাতার সবুজের জমে থাকা
শিঁশির দিয়ে মুছতে পারি তোমার পায়ের তল,
মুখের ওম আর গ্রীবার তল।
তুমি চাইলে তোমাকে শোনাতে পারি
ঝিঝি পোকার গীত গুঞ্জন,
জোনাক আলোয় রাঙাতে পারি
তোমার শাড়ীর নীল, গালের তিল।
তুমি চাইলেই তোমাকে দিতে পারি
সন্ধ্যে রাতে জোনাক আলোর তালপুকুর।
তুমি চাইলেই এই হৃদয় দিতে পারি,
দিতে পারি এই সিঁদুর মাখা সন্ধের সব লাল।
এই সন্ধ্যে তোমার, এই উচ্ছ্বাস সব তোমার জন্যে।
আমার হৃদয়ের সবটুকু জায়গা-ই তোমার।
আজ তুমি এসেছো বলেই আমার হৃদয় ভরেছে
প্রেমের পুলকে বিধ্বস্ত হয়েছে ভেতরের সব গোপন চর।
তুমি এসছো বলেই সন্ধ্যে নেমেছে
ঠিক সন্ধ্যের মতো সাজে।

লেখক;
আসিফ ইকবাল আরিফ
সহকারী অধ্যাপক
নৃবিজ্ঞান বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

***তুমি এলে তাই সন্ধ্যা নামলো***

মেঘের কোলে ঢলে পড়া রোদ
সিঁদুর রঙের রক্তিম সূর্যটা প্রায় ডুবতে বসেছে
সবুজ ছায়াতলে সন্ধ্যে নামছে ঝরনা ধারার মতো করে।
এই বুঝি তুমি এলে মেঘের নীলাচল বিছিয়ে
কুন্ত কেশের কালোমেঘে প্রেম মৃত্যুর দাবি নিয়ে।
মুহুর্তের কাঁপনেই সন্ধ্যে নামলো!
আমার ভেতরটা কাঁপছে মরি মরি জ্বরে!
এক যুগ! ঠিক এক যুগ পরে তুমি এলে
ঠিক এতোদিনের অপেক্ষাতে আবার নামলো সন্ধ্যে এমন করে।
এতোদিনে তুমি আসোনি বলে সন্ধে নেমেছে রাতের মতো করে;
ঠিক যেনো নিশ্চুপ রাতের কালোর মতো করে
আর পালিয়েছে চুপিসারে আমার আঙিনা থেকে।
তুমি ছিলেনা বলে শালিকের ঘরে ফেরা ছিলো না,
বাশবাগানের তলে বকের সাদা পালকও খসে পড়তো না,
নদীর তীর বেয়ে তড়িঘড়ি তালে ঘরে ফিরতো না হাঁসের পাল,
মোল্লা বাড়ির কুকুরের পালের ছিলো না শেয়াল তাড়াবার দুর্বার প্রস্তুতিও।
এতোদিন তুমি ছিলে না বলে
সন্ধ্যের রাঙাতে রাঙা বধুর মুখ জুড়ে থাকতো ঘোর অমাবস্যা!
তালতলে বাবুই পাখির মরণ কান্না লেগেই থাকতো,
মধ্যবয়সী বউয়ের কলসে উঠতো না রাতের জল।
তুমি ছিলে না বলে চায়ের স্বাদটা ছিলো শুধুই তেতো রস!
তুমি ছিলে না বলে মসজিদের আযান বাজতো খুব নীরবে,
মন্দিরের ঘন্টা বাজতো বিরহী সুরে – আল্লাহ অথবা ভগবান
নিশ্চুপ বিরহে প্রার্থণা নিতো খুব গোপনে।
তুমি আসার পরে যেনো সব বদলে গেছে।
নদীভরা জল উপচে পড়ছে
ডুবন্ত সূর্যটা যেনো গাঁয়ের সব রাঙা বধুর
সিঁদুরের লাল ধার করে লালে সেজেছে,
সবুজঘাসের ডগা হেলেদুলে নাচছে,
হেলেঞ্চা গাছে যৌবন ফিরেছে আবার।
তুমি এলে তাই শালিকের পাল মেতেছে সুর লহরী তালে,
সাঝের মায়ার নৃত্যে মরিয়া মাচার উপরের টুনটুনির দলও।
শুধু তুমি এসেছো বলে
কদমতলা ভরে গেছে কোকিলের খসে যাওয়া পালকে,
বধুর কলস ভরে উঠেছে যৌবনের জল,
আর বাবুই পাখির বাসা হয়েছে স্বর্গরাজ্যের মধ্যমণি।
তুমি এসেছো বলে
মসজিদের আযান ছড়িয়ে পড়েছে শেষ প্রান্তের বাড়িটিতেও
মন্দিরের ঘন্টা বাজছে প্রার্থনার গানে।
শুধুই তুমি এসেছো বলে
আজ সব ভরে গেছে প্রাণছন্দে।
এতো পুলকের ক্ষণ নিয়ে তুমি এলে
বলো তো কি দেবো তোমাকে?
আমি আস্তাকুড়ের নষ্ট হৃদয়ের কবি
তোমাকে দেবার মতো কিইবা আছে আমার!
তুমি চাইলেই ঘুঘুর গানে সারিয়ে দিতে পারি
তোমার হৃদয়ের সব গোপন অসুখ,
বুলবুলির নাচে তোমাকে করতে পারি আরও বেশি চঞ্চল।
তুমি চাইলেই
টিয়ার ঠোঁটের অসহ্য লালে রাঙাতে পারি তোমার ঔষ্ঠ।
কলাপাতার সবুজের জমে থাকা
শিঁশির দিয়ে মুছতে পারি তোমার পায়ের তল,
মুখের ওম আর গ্রীবার তল।
তুমি চাইলে তোমাকে শোনাতে পারি
ঝিঝি পোকার গীত গুঞ্জন,
জোনাক আলোয় রাঙাতে পারি
তোমার শাড়ীর নীল, গালের তিল।
তুমি চাইলেই তোমাকে দিতে পারি
সন্ধ্যে রাতে জোনাক আলোর তালপুকুর।
তুমি চাইলেই এই হৃদয় দিতে পারি,
দিতে পারি এই সিঁদুর মাখা সন্ধের সব লাল।
এই সন্ধ্যে তোমার, এই উচ্ছ্বাস সব তোমার জন্যে।
আমার হৃদয়ের সবটুকু জায়গা-ই তোমার।
আজ তুমি এসেছো বলেই আমার হৃদয় ভরেছে
প্রেমের পুলকে বিধ্বস্ত হয়েছে ভেতরের সব গোপন চর।
তুমি এসছো বলেই সন্ধ্যে নেমেছে
ঠিক সন্ধ্যের মতো সাজে।

লেখক;
আসিফ ইকবাল আরিফ
সহকারী অধ্যাপক
নৃবিজ্ঞান বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।