তিন জেলার শিল্পীদের শিল্পকলায় পরিবেশনা

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে ২১ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২০’। গত ৩ জানুয়ারি এ উৎসব শুরু হয়েছে। চলবে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। দেশের ৬৪টি জেলা, ৬৪টি উপজেলা এবং জাতীয় পর্যায়ের পাঁচ হাজারের অধিক শিল্পী ও শতাধিক সংগঠনের অংশগ্রহণে এই শিল্পযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে।

উৎসবের চতুর্থ দিন সোমবার (৬ জানুয়ারি) একাডেমির নন্দনমঞ্চে বিকেল ৪টা থেকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়। পরিবেশনায় ছিল জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও পঞ্চগড় জেলার পরিবেশনা। শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

তিন জেলার পরিবেশনা শুরুর আগে শিল্পকলা একাডেমি ঢাকার পরিবেশনায় ছিল অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী। বরেণ্য শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমামের একক আবৃত্তি, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিল্পীদের পরিবেশনায় সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সাফান, শুপ্ত, শুসমী, অমিত, সাফিন ও লিথি। একক সঙ্গীত পরিবেশন করে একাডেমির শিশু সঙ্গীত দলের শিল্পী শ্রাবন্তী। দীপা খন্দকারের পরিচালনায় দুটি সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে দিব্য সাংস্কৃতিক সংগঠন।

জামালপুর জেলার পরিবেশনার শুরুতে জারি গান এবং দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করে শিল্পী টুটুল মাহমুদ, আশরাফুল হোসাইন, কাওসার আহমেদ, সাকিব হাসান শুভ, মো. সুমন মিয়া, নাজিমা আনছারী, শ্রাবন্তী, শশী ও শ্রেয়া। সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে জনি, রাসেল, তপু, আকাশ, অন্তরা, রূপন্তী, সোনিয়া, সাথী, বিথী ও সুমী। একক সঙ্গীত জাতীয় পর্যায়ের তারকা শিল্পী টুটুল খান এবং উপজেলা পর্যায়ের শিল্পী সুমি আক্তার পরিবেশন করে লালনগীতি। যন্ত্রে সানাইয়ের সুর তোলেন শিল্পী মো. কবির, সঞ্জীব সেন, মো. বুলবুল ইসলাম, সেলিনা বেগম ও অজন্তা রহমান।

সিরাজগঞ্জ জেলার পরিবেশনায় সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে শিল্পী ড. জান্নাত আরা হেনরী, রাশু, আশিষ, সাইফুল, দুর্জয়, সুইটি, রেনেসাঁ, প্রিয়ন্তী, আশা ও স্বপ্না সাহা। দুটি সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পী ড. জান্নাত আরা হেনরী, রাশু, লাজ, হুমায়রা, বিধা, জয়া, অনুরাধা, মামুন, ওসমান, সজীব, তালেব ও সাগর। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী ড. জান্নাত আরা হেনরী এবং উপজেলা পর্যায়ে স্বপ্না সাহা এবং যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী আজাদ রহমান, লিটন দাস, শাওন ও মানিক।

পঞ্চগড় জেলার পরিবেশনায় সমবেত সঙ্গীতে শিল্পী ছিলেন নুরনবী জিন্নাহ, মো. মাহবুব, শিহাব, আদনান, মঞ্জু ইসলাম, আব্দুল মান্নান, পলি দত্ত, সাবরিনা, শবনম মীম, রোকসানা আক্তার ও মুক্তা রানি। সমবেত নৃত্যে ছিলেন সুমন, পলাশ, লিটু, আনান, উমর ফারুক, লিপু, জ্যোতি, অহনা, নীড় ও তিলোত্তমা দাস। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী স্মরনিকা বিশ্বাস এবং উপজেলা পর্যায়ের শিল্পী রোকসান আক্তার এবং যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী রঞ্জিত সরকার, জ্যোতি, রউস ও রুহিনী সিংহ। অতিথি ছিলেন পঞ্চগড় জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াবুর রহমান।

একাডেমি প্রাঙ্গণে রাত ৮টায় দর্শনীর বিনিময়ে অনুষ্ঠিত হয় কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য পদ্মার নাচন। রেজাউল সলকের নির্দেশনায় এবং রেজাউল সলক ও নছিমন নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় ছিল ‘চাঁদ সওদাগড়ের বাণিজ্য পালা ও বেহুলার বিয়ে’ যাত্রা পালা।