তারাকান্দায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২

মোঃ খলিলুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় শিরিনা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধুর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও স্বামীর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। রবিবার বিকালে উপজেলার কাকনী ইউনিয়নে পুঙ্গাই গ্রামে এই ঘটনা ঘটে । ওই ঘটনায় গৃবধুর স্বামী সোহেল মিয়া (৩০) পলাতক রয়েছে , তবে তারাকান্দা থানা পুলিশ সোহেল মিয়ার মা ও তার বোন’কে গ্রেপ্তার করেছে ।

এলাকাবাসী জানান, পুঙ্গাই গ্রামের দক্ষিণ পাড়া এলাকার সুরুজ মিয়া’র ছেলে সোহেল মিয়া ও পাশের বাড়ির সিরাজ আলীর মেয়ে শিরিনা আক্তার এর সাথে পারিবারি ভাবে বিবাহ হয় ৪ বছর পূর্বে । বিবাহ জীবন থেকে স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক ভাল ছিল না ।চার বছর সংসারে তাদের একটি সন্তান জন্ম হয়।তার বয়স এখন ১ বছর।

জানা যায়, রবিবার বিকেলে ঘুমন্ত অবস্থায় তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সোহেল মিয়া পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা সিরাজ আলী তারাকান্দা থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ শাশুড়ি ফুলে বেগম (৫০) ও ননদ শিউলি বেগমকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত স্বামী সোহেল মিয়া পলাতক রয়েছে।
গৃহবধূর বাবা সিরাজ আলী জানান, মেয়ের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে স্বামী সোহেল মিয়া।যৌতুক দিতে না পারলেই সোহেলসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন চালাতো মেয়ের ওপর অমানুসিক নির্যাতন।

কাকনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান রিপন জানান, যৌতুকের জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। ঐ গৃহবধূর প্রায় ৭৫ শতাংশ শরীর পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় মামলা করেছেন গৃহবধূর বাবা। রবিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূর শাশুড়ি ও ননদীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।