তরুণদের বেশি বেশি সুযোগ দিন : সায়মা ওয়াজেদ

দেশকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের বেশি বেশি সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিআরআই-এর ভাইস চেয়ারপারসন ও অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। তরুণ বয়সেই কমিউনিটির স্বার্থরক্ষায় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে বঙ্গবঙ্গু শেখ মুজিবুর রহমান কীভাবে একটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হয়েছিলেন, সেই দৃষ্টান্ত টেনে ‘কম বয়সী হলেই কম জানবে’ এমন চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।

সেন্টার ফর রিসার্স অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলা আয়োজিত তিন দিনের সাত পর্বের লেটস টক অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) অংশ নিয়ে এই আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধুর নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা।

এসময় সায়মা হোসেন বলেন, ‘কম বয়সী হলেও অনেকে অনেক জানে, পথ দেখিয়ে দিতে পারে; এটা আমাদের দেশের ইতিহাসেই আছে। আমরা যদি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা চিন্তা করি, আমরা যদি আমাদের দেশের ফাউন্ডার… আমার নানার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) কথা চিন্তা করি, তাহলে দেখবো- উনি কিন্তু ইয়ুথ ভলান্টিয়ার হিসেবে শুরু করেছিলেন।’

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)-এর দূত সায়মা বলেন, ‘পলিটিকস দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনের শুরু হয়নি, উনি কোনও বড় প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু করেন নাই। ওগুলো পরে এসেছিল। ওনার জীবনে আগে কাজ ছিল, নিজের কমিউনিটিতে একটা গ্যাপ দেখেছিলেন, ওনার ফেলোদের দেখেছিলেন, ভেবেছিলেন- তাদের কীভাবে সাহায্য করবেন? আর ওখান থেকে উনি উঠে এসেছিলেন। ওনার লিডারশিপ কোয়ালিটি তৈরি হয়েছিল ওখান থেকে- ফ্রম হিজ ইয়ুথ, ফ্রম হিজ কমিউনিটি অ্যাক্টিভিজম। ওনার নিজের কিছু মোরাল ভ্যালুজ ছিল, ওনার কিছু ড্রাইভ ছিল, ওই কম্পাসটা ওনি ফলো করে… । এমন না যে উনি বাধা ফেইস করেননি, অনেক বাধা ফেইস করেছেন। কিন্তু তারপরেও উনি সুযোগ করে নিয়েছিলেন এবং ওখান থেকে ওনার লিডারশিপ কোয়ালিটি তৈরি হয়েছিল। ওই কারণে কিন্তু আমরা শেষমেশ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি। উনি ওখান থেকে শিখে এসেছিলেন।’

তারুণ্যের প্রসঙ্গে সায়মা হোসেন আরও বলেন, ‘সুতরাং খুব কম বয়স থেকে এই জিনিসগুলো শেখা দরকার এবং আমরা যদি চাই- আমাদের দেশ উন্নতি করবে, তাহলে আমাদের ইয়ুথদের এই সুযোগুলো তৈরি করে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।’

লেটস টক-এ গত কয়েকদিনের আলোচনায় যেসব বিষয়ে সুপারিশ এসেছে, তা নিয়েও কথা বলেন সায়মা। তিনি বলেন, ‘কিসের জন্য ইয়ুথকে লেখাপড়া শেখাচ্ছি, স্কুলে দিচ্ছি, তারা কী তাদের জন্য রেডি কিনা, তারা ওখানে কী শিখছে? জাস্ট লেখাপড়া শিখছে না ভ্যালুজ শিখছে? কীভাবে অ্যাসেন্স অব ন্যাশনালিজম, কীভাবে দেশের জন্য কন্ট্রিবিউট করবে, কীভাবে কমিউনিটি এনভলভমেন্ট হবে? এই জিনিসগুলো আমাদের আসলে করা উচিৎ।’

দেশের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে তরুণদের সেতুবন্ধন গড়ে দিতে ২০১৪ সাল থেকে ইয়াং বাংলা ‘লেটস টক’ শিরোনামে এই আয়োজন করে আসছে। এবার তিন দিনের উদ্বোধনী ও সমাপনী পর্ব ছাড়াও দুই দিনে পাঁচটি থিমের ওপর লেটস টক অনুষ্ঠিত হয। ওই অনুষ্ঠানগুলোতে যেসব সুপারিশ এসেছে, সেগুলো সমাপনী অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

সমাপনী পর্বে আরও অংশ নেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, ইয়ং বাংলার আহ্বায়ক নাহিম রাজ্জাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস প্রমুখ।