ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণহত্যা সম্পর্কে এনবিসি নিউজ যা বলেছিল

একাত্তরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী দেশজুড়ে নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী যে গণহত্যা চলেছে তার মধ্যে বাংলাদেশের গণহত্যার পরিধি ও মাত্রিকতা নজিরবিহীন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় তা ছিল চরম নির্মম, বর্বর ও পাশবিক। ওই রাতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিক কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় ১৯৫ জনের নাম আছে; যাদের মধ্যে জগন্নাথ হলের ৬৬ জন। এদের পরিচয় পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওয়্যারলেসের সংলাপেও বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনশ’ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের ওই অভিযান চলেছে ২৫ মার্চ (দিবাগত) মধ্যরাত থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত। এ অভিযানের একমাত্র লক্ষ্য ছিল মানুষ হত্যা। তাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ সব আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ত্যাগ আর নেই। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাদের অনেকে যথাযথ মূল্যায়ন ও সাহায্য সহযোগিতা পায়নি।

জগন্নাথ হলে সেদিন যারা শহীদ হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৬৬ জনের পরিচয় পাওয়া যায়। তাদের নামের তালিকা উৎকীর্ণ আছে হলের মাঠে গণকবরের জায়গায় তৈরি একটি নামফলকে। সম্প্রতি এ গণকবরটি আধুনিকায়ন করে অত্যাধুনিক একটি ‘গণকবর স্মৃতিসৌধ’ তৈরি করা হচ্ছে। এর আগে অবহেলিত একটি গণকবর ছিল এটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক রতন লাল চক্রবর্তীর সম্পাদনায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যা : ১৯৭১ জগন্নাথ হল’ বইতে বলা হয়েছে- ওই রাতে সেখানে গণহত্যার শিকার হন চারজন শিক্ষক, ৩৬ জন ছাত্র এবং ২১ জন কর্মচারী ও অতিথি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণহত্যা সম্পর্কে এনবিসি নিউজ বলে যে এমন নজিরবিহীন নারকীয় হত্যাযজ্ঞ আর দেখা যায় নি।