চার ঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার

যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাত ৯টা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে চার ঘণ্টার বৈঠকে রাত পৌনে ১টার দিকে এ সিদ্ধান্ত হয়। শ্রমিকদের দেয়া ৯ দফা দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনে যে কয়টি ধারা নিয়ে তারা আবেদন করেছেন, সেগুলো সংশোধনের জন্য আমরা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ আকারে পাঠাবো। আর তাদের যেসব কাগজপত্রে সমস্যা আছে, সেগুলো সংশোধন করে নেয়ার জন্য জুন পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। তাদের দাবিগুলো আমরা মেনে নিয়েছি। তবে যারা অবৈধ লাইসেন্স ব্যবহার করবেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। অবৈধ লাইসেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠিন থাকবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের এক নম্বর যে দাবি ছিল চালকদের লাইসেন্স সর্ম্পকে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চালকেরা যে লাইসেন্স দিয়ে রাস্তায় চলাফেরা করেছেন, সেটা দিয়েই চলাফেরা করতে পারবেন। তবে আগামী ৩০ জুন পর থেকে সঠিক লাইসেন্স ব্যবহার করতে হবে। যেমন লাইট লাইসেন্স দিয়ে তখন আর ভারি গাড়ি চালাতে পারবেন না। তাদের আরেকটা দাবি হচ্ছে ইতোমধ্যে যেসব মামলা খেয়েছে সেসব মামলার টাকা পরিশোধ না করায় ইতোমধ্যে চারগুণ হয়ে গিয়েছে। তাই সেগুলো যেন মওকুব করা হয় তাদের সে দাবি ও পুনর্বিবেচনা করা হবে। এই জন্য সড়ক ও সেতুমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সে একটা অসংগতি ছিল। আমরাও তাদের লাইসেন্সগুলো সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দিতে পারছিলাম না। এই অবস্থায় এখন তারা যেই ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন সেই ইন্সট্রুমেন্ট দিয়েই আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন। জুনের মধ্যে তারা বিআরটিএ’র মাধ্যমে তাদের গাড়ির লাইসেন্স ঠিক করে নেবেন।’

তিনি বলেন, ‘তাদের দ্বিতীয় দাবি ছিল বিভিন্ন প্রকার গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করতে জরিমানা চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা সময় মত তা পরিশোধ করতে পারেনি বলেই এই জরিমানাগুলো হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা বলেছি মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী সেগুলো বিবেচনা করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মেনে নেবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গাড়ির বিভিন্ন দৈর্ঘ্য-প্রস্থ নিয়েও বিভিন্ন কথা ছিল৷ সেগুলো আগামী জুনের মধ্যে বিআরটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে তারা গাড়ির স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ঠিক করে নেবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের নয়টি দাবির মধ্যে তারা কিছু আইনের ধারা সংশোধনের জন্য বলেছেন। সেগুলো আমরা যোগাযোগ মন্ত্রীর কাছে সুপারিশসহ পাঠিয়ে দেবো। যাতে করে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে যেভাবে যেভাবে করা দরকার সেভাবে প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। সেটা উনি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবেন। সেই আশ্বাস আমরা এখানে দিয়েছি।’

বৈঠক শেষে মালিক-পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা সন্তুষ্ট উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি এখন তারা সন্তুষ্ট হয়ে তাদের যে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সেটা প্রত্যাহার করে নেবে এবং সেই প্রতিশ্রুতি তারা এখানে দিয়েছে।’

এরপর বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক রুস্তম আলী খান বলেন, ‘আমরা চার ঘণ্টা আলোচনা করেছি। আমাদের দাবিগুলো মেনে নেয়া হয়েছে। আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলাম।’