ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: উপকূলীয় জেলাগুলোতে সমুদ্র ও নদ-নদীর পানি বেড়েছে

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলাগুলোতে সমুদ্র ও নদ-নদীর পানি বেড়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে নিচু এলাকা এবং বিভিন্ন চরাঞ্চল। পানির প্রবল তোড়ে কোথাও কোথাও বেঁড়িবাধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। ভোলা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনার নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অনেক মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বুধবার সকাল থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টিসহ ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায়। উত্তাল হয়ে উঠে সমুদ্র। বাড়তে থাকে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি।

বাগেরহাটের শরণখোলা, রামপালসহ নিচু এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে।

সাতক্ষীরার খোলপেটুয়া, কপোতাক্ষ ও মালঞ্চ নদীর পানি বেড়েছে। জোয়ারে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, কৈখালি, মুন্সিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি স্থানে বেঁড়িবাধ উপচে পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে।

জোয়ারের পানি চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় বেড়ে যাওয়ায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন নিজামপুর, দেবপুর, রাঙ্গাবালীর চর মোন্তাজ, চর বাংলাসহ কয়েকটি জায়গায় বাধ উপচে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। বাড়িঘরের পাশাপাশি তলিয়ে গেছে অর্ধশত মাছের ঘের।

ভোলায় ঝোড়ো হাওয়ায় অনেক জায়গায় গাছপালা উপড়ে পড়ে। অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় চরফ্যাশন, ঢালচর, চর পাতিলা ও চর কুকরি-মুকরিসহ বেশ কিছু গ্রাম। জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয় বিভিন্ন চরের কয়েক হাজার বাসিন্দাকে।

ইয়াসের প্রভাবে বিপদসীমার ওপরে বইছে বরগুনার পায়রা, বিশখালী ও বলেশ্বর নদের পানি। অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সদরের বালিয়াতলী, ঢালভাঙ্গাসহ অন্তত ২০টি গ্রাম। এছাড়া, পাথরঘাটার পদ্মা এলাকায় বেঁড়িবাধ ভেঙে যাওয়ায় পানিবন্দি বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা ।

খুলনা উপকূলে বাতাসের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। পানির তীব্র তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিবন্দি হওয়ার আতংকে আছেন উপকূলবাসী।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে জোয়ারের পানি বাড়ায় কক্সবাজারের উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঢেউয়ের তোড়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেটিতে ভাঙন ধরেছে। সেন্টমার্টিনের পুর্ব ও পশ্চিম দিকে কিছু এলাকা, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ ও সদর উপজেলার বেশকিছু এলাকা তলিয়ে গেছে।