ঘরের মাৈ হোয়াইট ওয়াশ দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে গিয়ে তাদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলাই করল ইংলিশরা। পরপর তিন ম্যাচেই পেয়েছে সহজ জয়, স্বাগতিকদের দিয়েছে হোয়াইটওয়াশের তেতো স্বাদ। ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের দাপটটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে ইংল্যান্ড।
সবশেষ মঙ্গলবার রাতে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৯ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচটা কিন্তু অত সহজ ছিল না। আগে ব্যাট করে ১৯২ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। সিরিজে এটিই তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এতেও হয়নি শেষ রক্ষা। ইংল্যান্ড ম্যাচ জিতে নিয়েছে ১৪ বল হাতে রেখে।

সিরিজটি শুরুর আগে টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান ডেভিড মালান সংশয় প্রকাশ করেছিলেন একাদশে থাকা নিয়েও। সিরিজ শেষে তিনিই হয়েছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তিন ম্যাচে ৮৬.৫০ গড়ে করেছেন ১৭৩ রান, জিতেছেন শেষ ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ও সিরিজসেরার পুরস্কার।
মালানের ব্যাটে চড়েই শেষ ম্যাচটি সহজে জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের উইনিং শট নেয়া মালান শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন ১১ চার ও ৫ ছয়ের মারে ৪৭ বলে ৯৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে। ম্যাচ জিততে যখন ১ রান প্রয়োজন, তখন তার সেঞ্চুরির জন্য বাকি ছিল ২ রান। তা হয়তো টের পাননি তিনি, ৯৮ রানে দাঁড়িয়ে সিঙ্গেল নিয়েই নিশ্চিত করেছেন দলের জয়।
মাত্র ১৯ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে মালানের এটি দশম ৫০+ রানের ইনিংস। যেখানে রয়েছে ১টি সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান নিজের দখলে রেখে এই ১৯ ম্যাচে ৫৩.৪৩ গড়ে করেছেন ৮৫৫ রান, স্ট্রাইকরেট দেড়শ ছুঁইছুঁই। সাম্প্রতিক সময়ে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের উত্থানের অন্যতম নায়ক তিনি।
তবে মালানের পাশাপাশি শেষ ম্যাচে বড় অবদান রেখেছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জস বাটলারও। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েছেন ১৬৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি, তাও মাত্র ১৪ ওভারের মধ্যে। দলীয় ২৫ রানে জেসন রয় ফিরে যাওয়ার পর বিপদ ঘটতে দেননি মালান ও বাটলার। শেষপর্যন্ত ৩ চার ও ৫ ছয়ের মারে ৪৬ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন বাটলার।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসটি ১৯১ রানে নেয়ার বড় কৃতিত্ব রসি ফন ডার ডুসেনের। চতুর্থ উইকেটে ফাফ ডু প্লেসিসের সঙ্গে তিনি গড়েন ৬৩ বলে ১২৭ রানের জুটি। শুরুটা খুবই ধীর হলেও, ডুসেনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষের ১০ ওভারে ১২৫ রান যোগ করে প্রোটিয়ারা। এতে বেশ অবদান ছিল ডু প্লেসিসেরও।
শেষ পর্যন্ত ডুসেন খেলেন ৫ চার ও ৫ ছয়ের মারে ৩২ বলে ৭৪ রানের অপরাজিত ইনিংস। একপ্রান্ত আগলে রাখা ইনিংসে ৩৭ বলে ৫২ রান করে ডু প্লেসিস। তার ইনিংসটি সাজান ছিল ৫ চার ও ৩ ছয়ের মারে। দুজনের কৃতিত্বে ১৯১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করালেও, এটি যথেষ্ট ছিল না স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর জন্য।