গৌরীপুরে ভুয়া সনদপত্রে চাকুরি! দফতরি নিয়োগে অনিয়ম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ময়মনসিংহ ১৫ ফেব্রুয়ারি :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার উখাকান্দা প্রাইমারী স্কুলের দফতরি (কাম প্রহরী) নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুয়া সনদপত্র দিয়ে চাকুরী নেয়া হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নিয়োগ জালিয়াতি প্রসঙ্গে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অপর এক প্রার্থী।

অভিযোগে জানা যায়, গৌরীপুর উপজেলার ১০ নং সিধলা ইউনিয়নের উখাকান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি (কাম প্রহরী) নিয়োগে উত্তীর্ণ মোঃ পারভেজ মিয়া কোন বিদ্যালয়ে পড়ালেখা না করেও অষ্টম শ্রেনী পাস ভুয়া সনদপত্র দাখিল করে চাকুরি হাতিয়ে নেয়। যেখানে প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখ ৩০ বছরের উপরে থাকায় জন্ম নিবন্ধন দিয়ে চাকরি নেয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানায়।

দফতরি নিয়োগ প্রাপ্ত মোঃ পারভেজ মিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র জন্ম তারিখ ১ মে ১৯৮৮ থাকলেও তার দাখিলকৃত জন্মনিবন্ধনে ১ মে ১৯৯২ দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে অসাদুপায়ে জন্ম সনদ জালিয়াতির প্রমান মিলেছে। অন্যদিকে নিয়োগে দাখিলকৃত বালিয়াজুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনী পাসের সনদপত্র নিয়ে খোদ বিদ্যালয় কতৃপক্ষের সন্দেহাতিততা রয়েছে বলে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানিয়েছেন।

এদিকে সরজমিনে বালিয়াজুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে অফিস সহকারী ও সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেকই বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি নিতে সনদ নিয়ে থাকে। তবে সিধলা ইউনিয়নের আবু বক্কর সিদ্দিক এর পুত্র মোঃ পারভেজ মিয়া ওই স্কুলে পড়ালেখা ও সনদ গ্রহন নিয়ে সন্দেহ পোষন করেন।

বিষয়টি নিয়ে গৌরীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযোগ সম্পর্কে তারাও অবগত হয়েছেন। শিক্ষা অফিসার বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে নিয়োগ বাতিল ও জালিয়াতির কারনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।