গফরগাঁওয়ে গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে রহস্য

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রোকসানা আক্তার সাদিয়া(২৮) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পাগলা থানা পুলিশ।
শুক্রবার সকালে উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নের গুইয়ারপাড় গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। গৃহবধূ একই ইউনিয়নের মাখল গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে ।
জানা গেছে, ৪ বছর আগে গুইয়ারপাড় গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে রাসেল মিয়ার সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে হয়।বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিলো।তাদের শানিল(২) ও সাত মাস বয়সী সাওয়াদ নামে দুইটি সন্তান রয়েছে। বাড়িতে নিহত সাদিয়ার লাশ এনে রাখার পর প্রতিবেশিরা জানতে পারে যে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সাদিয়ার শ্বাসকষ্ট হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রতিবেশিরা সাদিয়ার পরিবারকে সাদিয়ার মৃত্যুর সংবাদ দেয়।একটি এম্বুলেন্স এসে সকাল ৮টার দিকে লাশটি রেখে যায়।এঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে।
নিহত সাদিয়ার ভাই আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন,বিয়ের পর থেকেই সাদিয়ার স্বামী রাসেল মৃধা সাদিয়াকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিলো। অবশেষে সাদিয়ার স্বামী রাসেল মিয়া ব্যবসা করার জন্য একটি মাটি কাটার ভেকু ক্রয় করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক নেয় ।এতেও সন্তুষ্ট থাকেনি রাসেল মিয়া। স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার ও অত্যাচার চালিয়ে যেতে থাকে। আমার বোনকে ওরা খুন করে ফেলেছে।প্রতিবেশিদের কাছে আমরা সাদিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পাই। সাদিয়ার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে আমার সন্দেহ হলে জাতীয় তথ্য সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে পাগলা থানা পুলিশে খবর দেই।পরে পুলিশ এসে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। আমার বোনের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
গৃহবধূ সাদিয়ার স্বামী রাসেল মিয়া পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।