কেন্দুয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ৫ পরীক্ষার্থী আহত

13

অনলাইন ডেস্ক : এসএসসি পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হওয়ার সময় এক পরীক্ষার্থী ওড়না ধরে টানটানি করে এলাকার বখাটেরা । পরে মেয়ে পরীক্ষার্থীর সহপাঠিরা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে তারা প্রতিবাদ করতে গেলে ৫ পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করে বখাটেরা।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) পরীক্ষা শেষে দুপুরে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া বানেটেক কেন্দ্রের সামনের রাস্তায় এ ঘটনাটি ঘটে।

আহতরা হলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থী সোপান, নাঈম, রিয়াদ, মোস্তফা ও রানা। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় মোস্তফা ও রানাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আহতরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এলাকা ও সংশ্লিষ্ট স্কুলের সূত্রে জানা গেছে,আশুজিয়া জেএনসি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লীজা নামে এক পরীক্ষার্থিনী মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় পৌরনীতি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে বানেটেক কেন্দ্রে যায় একই উপজেলার সান্দিকোণা ইউনিয়নের ওই মেয়েটিসহ আহত পরীক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হওয়ার সময় স্থানীয় সিংহেরগাঁও গ্রামের স্বপন মিয়ার ছেলে বখাটে রাজিব ও সহযোগী ভগবতীপুর গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে বখাটে হৃদয় ওই মেয়েটির ওড়না ধরে টানাটানি করে। এ সময় মেয়েটির সহপাঠি সোপান, নাঈম, রিয়াদ, মোস্তফা ও রানা ঘটনাটির প্রতিবাদ করলে তাদেরকে ধরে বাড়িতে আটকিয়ে মারপিট করে আহত করে প্রতিপক্ষের বখাটেরা ও সহযোগী লোকজন। এঘটনার জানার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈনউদ্দিন খন্দকার আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

আহত নাঈম জানায়, সহপাঠীকে ওড়না টানাটানি করতে থাকলে আমরা প্রতিবাদ করতে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা আমাদের তাদের বাড়িতে আটকে রেখে মারপিট করে। পরে থানা পুলিশ গিয়ে আমাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে।

আশুজিয়া জেএনসি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো.এজাহারুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাহিরে রাস্তায় হয়েছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী নিয়ে মিটিং ডেকেছি। তারপর পরবর্তী সিদ্বান্ত নেব।

এ নিয়ে আশুজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি মীমাংসার জন্য সান্দিকোণা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি। এ ঘটনায় আগামী বৃহস্পতিবার সালিশ বৈঠক বসবে। এতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সালিশে ঘটনাটি সমাধান করতে না পারলে আমরাই আইনের দ্বারস্থ হব।

তবে সান্দিকোণা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজুল ইসলাম জানান, আশুজিয়ার চেয়ারম্যান ঘটনাটি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু আমাদের ৫টা ছেলে আহত। এর মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তাই এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার সালিশে বসা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহ নেওয়াজের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈনউদ্দিন খন্দকার জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছি এবং চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়েছি। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।