কষ্ট পাচ্ছেন হানিফ সংকেত, বিষণ্ণ সুবর্ণা

দেশের কিংবদন্তি অভিনেতা আব্দুল কাদেরের মৃত্যুর বিষয়টি কেউই মেনে নিতে পারছে না। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন অঙ্গনে। দেশের কিংবদন্তী সাহিত্য পুরুষ হুমায়ূন আহমেদের ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে ‘বদি’ চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান আব্দুল কাদের। একই সাথে হুমায়ূন আহমেদের ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকে দুলাভাই চরিত্রেও দারুণ প্রশংসিত হন। দেশর সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত শিল্পীও ছিলেন তিনি। তার এমন চলে যাওয়ায় কষ্ট পাচ্ছেন ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক ও প্রযোজক হানিফ সংকেত। বিষণ্ণ হয়ে পড়েছেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী সুবর্ণা মুস্তাফা।

শনিবার সকালে গণমাধ্যমকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হানিফ সংকেত জানান, আমাদের জন্য খুবই কষ্টের খবর। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। অক্টোবরের মাঝামাঝি সর্বশেষ তিনি ‘ইত্যাদি’র শুট করেছিলেন। সে সময় তাঁকে খুব অসুস্থ দেখেছি। আমি তাঁকে বললাম, কী হয়েছে? উনি বললেন, “না, কিছু না; কিছু হয়নি।” শেষে আমাকে বললেন, “আমার শরীরটা ভালো না, দোয়া করবেন।” আমরা তাঁর শট একটা-একটা করে বসিয়ে নিয়েছি। যাঁরা পর্বটা দেখেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন।কাদের ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের প্রায় তিন দশকের সম্পর্ক। উনি অত্যন্ত শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন করতেন। দীর্ঘ তিন দশক তিনি আমাদের মামা-ভাগ্নে পর্বটা করেছেন এবং তিনি খুব জনপ্রিয়। ভাবি কিছুদিন আগে আমাকে বলেছিলেন, আমরা তাঁকে মানা করেছি, অসুস্থতা ও করোনার মধ্যে ‘ইত্যাদি’ না করতে। কিন্তু উনি বলেছেন, “না আমি ইত্যাদি করবোই।” তিনি শিডিউলমতো আসতেন, সময় নষ্ট করতেন না।

সুবর্ণা মুস্তফা ফেসবুকে এক শোকবার্তায় কাদেরের স্মৃতি চারণা করে লিখেছেন, ১৯৬৮ সালে ফরীদি (অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি) আর আমি ভারত যাচ্ছিলাম। সেই যাত্রার ফ্লাইট ছিলো পরদিন। আগেরদিন দরজায় নক পড়লো। দরজা খুলে দেখি কাদের ভাই দাঁড়িয়ে আছেন ক্যামেরা হাতে নিয়ে। তিনি সেটা আমাদের দিয়ে বললেন, “ভারত যাবা, সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখবা আর ছবি তুলবা”। এই হলো কাদের ভাই। বলার অপেক্ষা রাখে না যে আমাদের তখন কোনো ক্যামেরা ছিলো না। কাদের ভাই কেমন করে সেটা জানতে পেরেছিলেন আজও আমি সেটা জানতে পারিনি। জীবনের দারুণ এক স্মৃতি হয়ে রইলো এই ঘটনা। আমরা সবাই আপনাকে ভালোবাসি কাদের ভাই।