কর্মস্থলে নেই অনেক কর্মকর্তারা যেন দায়িত্ব শুধু ইউএনও, এসিল্যান্ড আর ওসির

এইচ. এম জোবায়ের হোসেন :
মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণপ্রতিরোধ,সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, গরীব
অসহায়দের ত্রাণ বিতরণ, লকডাউন বাস্তবায়নসহ নানা কার্যক্রমে সরকারী নির্দেশনা
অনুযায়ী উপজেলার কর্মকর্তাদের স্বস্ব কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে এ নির্দেশনা মানছেন না বেশীর ভাগ কর্মকর্তারাই। সরকারী ছুটি ঘোষনার পর থেকে একদিনের জন্যও অনেক কর্মকর্তার অফিসের তালা খোলা হয়নি। করোনা মোকাবেলায় উপজেলা শহরে ইউএনও, এসিল্যান্ড, টিএইচও, ওসি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ছাড়া কাউকে কর্মস্থলে এসে উপজেলার কার্যক্রমে অংশগ্রহন করতে দেখা যায়নি।
এতে করে হিমসিম খেতে হচ্ছে উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা নিয়মিত তদারকি না করার কারনে ইতিমধ্যে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল চুরির ঘটনায় চাল জব্দের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়।
রবিবার সাপ্তহিক কর্মদিবসের প্রথম দিনে উপজেলা পরিষদ ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কোন কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা নেই। এমনকি পিয়নকে দিয়ে অফিসের তালাও খোলা হয়নি সরকারী ছুটি ঘোষনার পর থেকে এমন তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একাধিক কর্মচারী।
গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ডিলারের চাল চুরির ঘটনার পর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা
রবিবারে অফিসে আসলেও কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর চলে যান তিনি। উপজেলা
পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পেলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
মোস্তাফিজুর রহমান উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূ‚মি) তরিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তার দপ্তরের কর্মচারী ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবকদের দিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন।
সকাল থেকে রাত অবধি ঊদ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পালনে ত্রান বিতরন, লকডাউন বাস্তবায়ন, জনপ্রতিনিধিদের ত্রান বিতরন তদারকি,জনগনের সচেতনতায় প্রচার প্রচারনা সবকিছুতেই তাদের মাধ্যমে সকল কাজ বাস্তবায়ন হলেও উপজেলায় প্রায় ত্রিশ জন কর্মকর্তা থাকলেও হাতে গুনা দু-একজন ছাড়া কাউকেই ত্রিশালে দেখা না যাওয়ার পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধের কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহন করতে দেখা
যায়নি।
উপজেলা পল্লাী উন্নয়ন কর্মকর্তা শহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের অফিস বন্ধ থাকায় তেমন কোন কাজও নেই। তাছাড়া করোনা মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যদি আমাদেরকে কোন কাজে লাগাতে চান তাহলে আমাদেরকে বললেই
আমরা উপস্থিত থাকব।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা উজ্জল কুমার দত্ত জানান, গত সপ্তাহে প্রতিদিন অফিস করার কথা বললেও গত সপ্তাহের শুধু রবিবার আর সোমবার তিনি অফিস করেছেন বলে জানিয়েছেন খাদ্য কর্মকর্তা কার্যালয়ের একজন অফিস সহকারী। গত রবিবার জেলা
খাদ্য কর্মকর্তা ত্রিশালে এসেছিলেন বলেই তিনি ওইদিন অফিসে আসেন বলেও
জানান অফিস সহকারী।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা অপরুপা মালাকার বলেন, কর্মস্থলে থাকার ব্যাপারে সরকারী
কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি আমাদেরকে। কথা বলার প্রথম পর্যায়ে রবিবার অফিসকক্ষ খোলা থাকার কথা দাবী করলেও পরে তিনি বলেন হয়তবা খোলা হয়নি। আমি অফিসের
আশেপাশেই ছিলাম, ভেতরে যাওয়া হয়নি।
ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কর্মকর্তাদের থাকার আবাসিক ভবন রয়েছে কিন্তু কেউ তা ব্যবহার করেন না, নিজস্ব কর্মস্থলে অনেকে আসেন না। কেউ কেউ ছুটি পেয়ে নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। অনেকে আসতে না পারলেও ফোনে যোগাযোগ
রেখে সহযোগিতা করছেন। সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে আরও সহজ হতো।