করোনায় নিভে গেলো আরও ২ পুলিশ সদস্যের প্রাণ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পুলিশের আরও ২ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজনই ডিএমপিতে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২ টায় ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃতরা হলেন- সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল খালেক ও ট্রাফিক কনস্টেবল আশেক মাহমুদ।

আব্দুল খালেক (৩৬) ডিএমপির মিরপুর পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (পিওএম) এএসআই ও মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার ঝোপখালী গ্রামে। তিনি আজিম উদ্দিন মৃধার ছেলে। তার স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে।

ডিএমপির পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল মালেক বলেন, প্রাথমিকভাবে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ার পর এএসআই আব্দুল খালেককে আরামবাগে একটি হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নেয়া হয়। বুধবার তার করোনার পরীক্ষার নমুনা পাঠানো হয়। রিপোর্টে তার করোনায় পজিটিভ আসে। এদিন বিকেল থেকে আব্দুল খালেকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন কোয়ারেন্টাইনে অবচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। সেখান থেকে হাসপাতালে নেবার পর রাত সোয়া ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খালেকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় বেলা ১১ টায় জানাজা শেষে বেতাগীর উদ্দেশে তার মৃতদেহ নিয়ে রওনা দেবে এবং নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দাফন করা হবে।

অন্যদিকে ডিএমপির ট্রাফিক উত্তরের সহকারী কমিশনার (এডমিন) বদরুল হাসান বলেন, ট্রাফিক উত্তরের এয়ারপোর্ট এলাকায় কর্মরত কনস্টেবল আশেক মাহমুদ (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মারা যান।

তিনি বলেন, করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ার পর তাকে সিদ্ধেশ্বরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুলিশ তত্ত্বাবধানের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টারে রাখা হয়। গত ২৬ এপ্রিল করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরদিন অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল তার করোনা পজিটিভ আসে।

বুধবার তার অবস্থার অবনতি হলে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। তার বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায়।

এর আগে গতকাল জসিম উদ্দিন নামে ডিএমপির আরেক কনস্টেবলের মৃত্যু হয়। তার বাড়ি কুমিল্লায়। জানাজা শেষে গতকালই তাকে কুমিল্লায় দাফন করা হয়েছে।