কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তদন্ত কমিটি স্থগিত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল আমিনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) তদন্ত কমিটির বোর্ড হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তদন্ত কমিটি স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রশাসিনক ভবনে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে তদন্ত কমিটি স্থগিত করার বিষয়টি জানানো হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন সমাপ্ত করে ক্লাসে ফিরে যায়।
জানা যায়, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৫-১৬ (এমবিএ) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল আমিন ২০১৮ সালে তাদের একটি কোর্সে মিডটার্ম পরীক্ষা ও এসাইনমেন্ট না নিয়ে মার্ক প্রদান করায় শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে এবছরের ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। সে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। শুক্রবার রফিকুল আমিনের বিরুদ্ধে এ তদন্ত কমিটির বোর্ড হওয়ার কথা ছিল, এ বিষয়টি মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে বিভাগের দুইশতা ধিক শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করেন।
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল আমিন জানান, ‘একটি মহল হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীদের দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা এ অভিযোগটি করিয়েছিলেন’।
ভারপ্রাপ্ত (উপাচার্য) ও ট্রেজারার অধ্যাপক জালাল উদ্দিন জানান, একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষক রফিকুল আমিনের বিরুদ্ধে শুক্রবার তদন্ত কমিটির একটি বোর্ড হওয়ার কথা ছিল তাই তদন্ত কমিটি স্থগিত করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করতে ইরানে থাকায় উনাকে ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি জানিয়ে শিক্ষক রফিকুল আমিনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি স্থগিত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তদন্ত কমিটি স্থগিত করার বিষয়টি জানানো হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে।