এমপি পরিচয়ে প্রতারনা, ময়মনসিংহ ডিবির হাতে আটক দুই প্রতারক

রেজাউল করীম বাদল :
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্ঠা প্রয়াত এইচটি ইমামের ছেলে সিরাজগঞ্জের উলাপাড়া আসনের সরকার দলীয় এমপি তানভির ইমামের নাম ভাঙ্গিয়ে মোটা অংকের টাকা প্রতারনার করায় ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা কথিত এমপি জহির উদ্দিন বাবুল ও তার সহযোগি গুলশান আরা লাভলীকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার সকালে তাদেরকে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামান জানান, সরকারী চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নগদ টাকা ও ব্যাংকের খালি চেক নেয়ার পর তাতে মোটা অংকের টাকার অংক বসিয়ে গুলশান আরা খানম লাভলী পুলিশের কাছে টাকা উদ্ধারের জন্য আবেদন করে এবং এইচটি ইমামের ছেলে সিরাজগঞ্জের উলাপাড়া আসনের সরকার দলীয় এমপি তানভির ইমাম সেজে কথিত এমপি জহির উদ্দিন বাবুল পুলিশকে ফোন করে তদবির করেন। বিষয়টি পুলিশের কাছে সন্দেহ হলে গুলশান আরা খানম লাভলীর বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্ত করার জন্য পুলিশ সুপার নির্দেশ দেয়া হয়।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশ তদন্তের জন্য মাঠে নামেন। ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, তদন্ত চলাকালে কথিত এমপি জহির উদ্দিন বাবুল, এইচটি ইমামের ছেলে সিরাজগঞ্জের উলাপাড়া আসনের সরকার দলীয় এমপি তানভির ইমাম সেজে গুলশান আরা খানম লাভলীর টাকা উদ্ধার করে দিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে একাধিক বার ফোন দিয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারক চক্রের মূল হোতা কথিত এমপি জহির উদ্দিন বাবুল ও তার সহযোগী গুলশান আরা খানম লাভলীকে রাজধানী ঢাকার হোটেল সেল্টার থেকে বুধবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক উদ্ধার করেছে।

ময়মনসিংহ শহরের প্রতারিত একধিক ব্যাক্তিরা জানিয়েছেন, গুলশান আরা খানম লাভলী তাদেরকে বলেন মোটা অংকের টাকা দিলে এইচটি ইমামের ছেলে সরকার দলীয় এমপি তানভির ইমামের মাধ্যমে ছেলে-মেয়ে ভাই ভাতিজাকে সরকারী চাকুরী দিতে পারবেন এবং মাঝে মধ্যে মোবাইল ফোনে তাদের সামনে লাভলী তানভির ইমামের সাথে কথা বলে আস্থা অর্জন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে চক্রটি গত তিন বছর ধরে প্রতারনা করে আসছে।

পুলিশ জানায় গ্রেফতারকৃত জহির উদ্দিন বাবুলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর গ্রামে। সে ঐ গ্রামের মৃত ডাঃ মাহতাব উদ্দিন আহম্মদের ছেলে। সে গত তিন বছর ধরে রাজধানীর ফকিরাপুল হোটেল সেল্টারে অবস্থান করছেন। এছাড়া গুলশান আরা খানম লাভলী নেত্রকোনার পূর্বধলার সাহুদকোন গ্রামের হায়দার আলী খানে স্ত্রী। সে ময়মনসিংহ শহরের সেনবাড়ি এলাকায় বসবাস করেন।

ভুক্তভোগী একাধিকের মতে, গুলশান আরা খানম লাভলী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের কাছে কাপড়-চোপড় বিক্রির আড়ালে অভিভাবকদেরকে চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে ফেলে। লাভলীর সাথে প্রয়াত এইচটি ইমামের ছেলে সরকার দলীয় এমপি তানভির ইমাম এমপির সাথে সখ্যতা রয়েছে। তাকে টাকা দিলে চাকুরী নিশ্চিত। অনেক সময় আস্থা অর্জন করতে লাভলী ঐ সমস্ত অভিভাবকদের সামনে কথিত এমপি তানভীর ইমামের সাথে মোবাইলে কথা বলতেন। এভাবে নিরীহ মহিলাদেরকে ফাদে ফেলে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও চেক গ্রহণ করতেন। পরে ঐ সমস্ত চেকের টাকা আদায় করতে লাভলী পুলিশের কাছে যান।

গ্রেফতারকৃত প্রতারকদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী আফরোজা বাদি হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।