‘এটা খুব ইতিবাচক দিক’

ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই গানের জগতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মৌসুমী অক্তার সালমা। এরপর বেশ কিছু জনপ্রিয় গান তিনি উপহার দেন। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের শো নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করেন। এদিকে কদিন আগেই দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন সালমা। এরপর স্বল্প বিরতি নিয়েই কাজে নেমে পড়েন তিনি। বর্তমানে গান নিয়ে বেশ সরব এ শিল্পী। দেশের বিভিন্ন স্থানে বেছে বেছে শো করছেন। এর বাইরে টিভি অনুষ্ঠানেও গাইছেন।

নতুন গানেও ব্যস্ত হয়েছেন সালমা। সব মিলিয়ে ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছেন এ শিল্পী। সম্প্রতি সালমা একটি ফোক ঘরানার গানে কন্ঠ দিয়েছেন। এটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন এম এ রহমান। এর বাইরে জিয়াউদ্দিন আলমের সুর ও রেজওয়ানের সংগীতেও একটি গানে কন্ঠ দিয়েছেন তিনি। এ গানটিও সামনে ভিডিওসহ প্রকাশ হবে। এর বাইরে নিজের চ্যানেলের জন্য কয়েকটি নতুন গান করে রেখেছেন এ গায়িকা। বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে সালমা বলেন, আমি বিভিন্ন ব্যানারের পাশাপাশি নিজের চ্যানেলে নিয়মিত গান করছি। মধ্যে একটু বিরতি ছিল। তবে এখন আবার নতুন গান প্রকাশ শুরু করবো। এরইমধ্যে কয়েকটি গান তৈরি হয়ে আছে। সেগুলোর ভিডিও করা বাকি। শিগগিরই সেগুলোর কাজ শেষ করে ফেলবো। আশা করছি ডিসেম্বর ও নতুন বছরের শুরুতে ভালো কিছু গান শ্রোতাদের ভিডিওসহ উপহার দিতে পারবো। তবে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত এখনই জানাতে চাই না। এগুলো চমক হিসেবে থাক। ফোক গান নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা আছে? সালমা বলেন, শুরু থেকেই আমার কন্ঠে ফোক গান শ্রোতারা ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। আসলে ফোক হলো মাটির গান। এ গানের টান অন্যরকম। আমি নিজেও ফোক ও লালনের গানে প্রতি আলাদা টান অনুভব করি। পুরোনো ও নতুন মৌলিক গান নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে। দেখা যাক কি হয়। বর্তমানে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কেমন মনে হচ্ছে? সালমা উক্তরে বলেন, এখন অবস্থা মোটামুটি ভালো। ডিজিটালি গান প্রকাশ হচ্ছে। এখন তো আর আগের মতো অ্যালবাম প্রকাশ হয় না। সবাই সিঙ্গেল করছে। আমিও বেশ কিছু সিঙ্গেল প্রকাশ করেছি ভিডিওসহ। ভালো সাড়াও মিলেছে। এখন গান প্রকাশ ও শোনা আগের থেকে সহজ হয়েছে। এটা খুব ইতিবাচক দিক। তাছাড়া ডিজিটাল মাধ্যম থেকেই আয় আসছে। আমি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে যে গানগুলো প্রকাশ করি সেগুলোর স্বত্ব আমার কাছেই থাকছে। সব মিলিয়ে অবস্থা এখন ভালো। সামনে হয়তো আরো ভালোর দিকে যাবে। এদিকে কদিন আগেই ‘সাফিয়া ফাউন্ডেশন’ এর যাত্রা শুরু করেছেন সালমা ও তার স্বামী সানাউল্লাহ নূরে সাগর। এর আওতায় একটি স্কুলের ৩০০ শিশুকে লেখাপড়ার উপকরণ দেয়া হয়েছে। এখন থেকে এ ফাউন্ডেশন সব সময় শিশুদের শিক্ষার জন্য কাজ করে যাবে বলেও জানিয়েছেন সালমা। তিনি বলেন, এটা আসলে আমার একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমার স্বামী সাগরের সহায়তায় এটা করতে পেরেছি। আমরা ধারাবাহিকভাবে শিশুদের শিক্ষায় সহযোগিতা করে যাওয়ার প্রত্যয় থেকেই এ ফাউন্ডেশন গড়েছি। দোয়া করবেন যেন আজীবন এর কাজ চালিয়ে যেতে পারি। এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। সংসার কেমন চলছে? সালমা হেসে বলেন, আল্লাহর রহমত ও সবার দোয়ায় খুব ভালো চলছে। আমার স্বামী সাগর আমাকে খুব বোঝে। আমাদের বোঝাপড়া ভালো। তাছাড়া সে আমাকে আমার কাজে সব সময় উৎসাহ দেয়। আমিও চেষ্টা করি সেটাই। আমরা যেন সারা জীবন এমন করেই ভালো থাকতে পারি সেই দোয়া করবেন।