উহানে আটকেপড়া ৩৪১ বাংলাদেশিকে আনতে দুপুরে চীন যাচ্ছে বিমান

উহানে আটকেপড়া
৩৪১ বাংলাদেশিকে আনতে দুপুরে চীন যাচ্ছে বিমান।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীনের নগরী উহানে আটকে পড়েছেন ৩৪১ জন বাংলাদেশি। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে শুক্রবার দুপুরে চীন যাচ্ছে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট। মধ্যরাতে বিমানটি তাদের নিয়ে ঢাকায় ফিরবে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই ৩৪১ জনকে এনে প্রথমে আশকোনার হজ ক্যাম্পে রাখা হবে।

সে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কাজে নেমেছেন কিছু দিন আগে অবসরে যাওয়া আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন। সংস্থাটি এই সঙ্কটে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছে।

মুশতাক হোসেন জানান, আইইডিসিআর থেকে তাকে শুক্রবার সকাল ৯টায় এয়ারপোর্টে যেতে বলা হয়েছে। সেখান থেকে তারা হজ ক্যাম্পে যাবেন। চীন থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত আনার পর তাদের কোথায় রাখা হবে, কিভাবে রাখা হবে, সার্বিক বিষয় সরেজমিনে দেখার জন্যই ড. মুশতাক হোসেনকে সেখানে যেতে বলেছে আইইডিসিআর।

উহানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি দেখভাল করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের যেভাবে বলা হচ্ছে আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘চীনের অনুমতি পেলে বাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য বিমান তৈরি রাখা হয়েছে। তাদের আলাদাভাবে রাখতে হাসপাতালে বিশেষ আয়োজন করেছি। আনার পরে দায়িত্ব স্বাস্থ্যমন্ত্রীর।’

প্রাণঘাতী এই ভাইরাস চীনের সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লেও দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি কেউ এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হননি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ফেরত আনার পর বাংলাদেশিদের পর্যবেক্ষণ রাখা হবে।

বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস উহানে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে। তাদের বেশিরভাগই দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন, মারাত্মক করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চীনে এখন পর্যন্ত ৩ শ’৭০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশে ফিরতে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ মিশনে নিবন্ধন করেছেন। যাদের বেশিরভাগ চীনের উহান (ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল) থেকে ফিরে আসার জন্য আগ্রহী হয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন বলেও তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষ দিকে নতুন চিহ্নিত ভাইরাসটির প্রথম সন্ধান পাওয়া যায় চীনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর উহানে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে ২১৩ জন মারা গেছেন। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে চীনের আরো ৯ হাজারের বেশি মানুষ। এই ভাইরাসের এখনও কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। আবিস্কৃত হয়নি কোনো ওষুধ বা চিকিৎসাও। চীনের বাইরে মোট ১৮ দেশের প্রায় ১শ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এই ঘোষণা দিল হু।

এদিকে ভয়াবহ করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার রাতে গোটা বিশ্ব জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু।

ধারণা করা হচ্ছে, এ ভাইরাসের সঙ্গে ২০০২-০৩ সালে চীন ও হংকংয়ে ছড়িয়ে পড়া সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) ভাইরাসের সংযোগ থাকতে পারে। ওই সময় সার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে প্রায় ৬৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।