ইয়েমেনি হামলায় ৩ সৌদি ব্রিগেড ধ্বংস

ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ সমর্থিত সেনাবাহিনীর হামলায় সৌদি সামরিক বাহিনীর তিনটি ব্রিগেড ধ্বংস হয়েছে। কয়েক হাজার সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ও সাঁজোয়া যান আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এ তথ্য জানায়।

তিনি বলেছেন, ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি আরবের নাজরান শহরে ৭২ ঘণ্টাব্যাপী হামলাটি চালানো হয়। হামলায় ইয়েমেনের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সমর্থন যুগিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হুতিরা সৌদি সেনাবাহিনীর বহু কর্মকর্তাসহ কয়েক হাজার সৈন্য, বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম এবং কয়েকশ সাঁজোয়া যান আটক করেছে। এ সময় আগ্রাসী বাহিনীর শতাধিক সেনা হতাহত হয়েছে।

ইয়াহিয়া সারি আরও বলেন, ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর কয়েকটি বিশেষ ইউনিট, সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্ররা হামলা চালিয়ে নাজরানের কয়েকটি কয়েকশ’ বর্গকিলোমিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ইয়েমনে সৌদি আরব ও তার মিত্রদের সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর এটিকে ‘সবচেয়ে বড় অর্জন’ বলে অভিহিত করেছেন ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর এই মুখপাত্র।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের ‘আবকাইক’ ও ‘খুরাইস’ তেল শোধনাগারে ১০টি পাইলটবিহীন বিমান বা ড্রোনের সাহায্যে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। হামলার কারণে দিনে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন ৫৭ লাখ ব্যারেল কমেছে, যা সৌদির মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক। এমনকি সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ও রফতানির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে দমন করে পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ দেশটির হুথিদের ওপর হামলা শুরু করে সৌদি আরব। গত প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে টানা বোমাবর্ষণ চালিয়েছে রিয়াদ।