ইসরাইলের স্বাস্হ্যমন্ত্রী ও তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত

ইসরাইলের স্বাস্হ্যমন্ত্রী ও তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়াকোভ লিৎটজম্যান ও তার স্ত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরা।

আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, করোনায় আক্রান্ত ৭১ বছর বয়সী ইসরায়েলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তারা আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ইসরায়েল সরকারের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে ইয়াকোভ লিৎটজম্যান করোনায় আক্রান্ত হলেন। তিনি বাড়িতে বসেই সরকারি কাজকর্ম করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও করোনা সন্দেহে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। উপদেষ্টার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ সোমবার এই খবর জানায়।

করোনা সংক্রমিত কারও সংস্পর্শে এলে ইসরায়েলে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের বিধান করা হয়েছে। গত সপ্তাহে জরুরি জোট সরকার গঠন করতে দেশটির পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। এ সময় তার ওই উপদেষ্টাও অংশ নেন।

ইসরায়েলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৬ হাজার ৯২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ জন মারা গেছেন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন ২৪১ জন। তবে সেখানে এখন প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে পুরো বিশ্ব নিরব, নিস্তব্ধ। বিশ্ব গ্রাম ধারণায় যেখানে রাত-দিনের পার্থক্য করাই দুষ্কর ছিল। সেখানে সমগ্র বিশ্বই ঘরবন্দী। চারদিক শুনশান, জনশূন্য। যেন পৃথিবী আজ এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বাস করা কষ্টসাধ্য হলেও বিশ্বজুড়ে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৮৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা এ যাবৎ একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ১৯২।

এই ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬ হাজার ৮৭২ জন। এটিও একদিনে আক্রান্তের সংখ্যায় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৮৯ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৩৮ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬০ জনের অবস্থা সাধারণ। ৩৫ হাজার ৪৭৮ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।

এদিকে করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ইতালি। ইতালিতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩ হাজার ১৫৫ জন। স্পেনে মৃতের সংখ্যা ৯ হাজার ৩৮৭ জন। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ১০২ জনের। চীনে ৩ হাজার ৩১২ জন। ফ্রান্সে ৪ হাজার ৩২ জন। ইরানে ৩ হাজার ৩৬ জন। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ৩৫২ জনে দাঁড়িয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।