ইরাকে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ১৯

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশে আধাসামরিক হাশাদ শাবী বাহিনীর ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলায় ১৯ সদস্য নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের সাথে সংযুক্ত মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে এ খবর জানানো হয়েছে। খবর সিনহুয়া।

রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সিরিয়ার সীমান্তবর্তী আল-কাইম শহরের নিকটবর্তী হাশাদ শাবির ৪৫তম ব্রিগেডের সদর দফতরকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়।

হাশাদ শাবী নেতা জাওয়াদ কাদিম আল-রেবাওয়ী বলেছেন, মার্কিন বাহনিীর ওই হামলা আল-কাইম সীমান্তবর্তী শহরের নিকটবর্তী হাশদ শাবির ৪৫তম ব্রিগেডের সদর দফতরে লক্ষ্যবস্তু ছিল এবং বহু আধাসামরিক সদস্য এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন।

ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের সাথে সংযুক্ত মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতি অনুসারে, সিরিয়া সীমান্তবর্তী হাশাদ শাবীর ৪৫তম ব্রিগেডের সদর দফতরে লক্ষ্য করে তিনটি মার্কিন বিমান হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিরুদ্ধে কেএইচ দ্বারা বারবার আক্রমণের জবাবে ইরাক ও সিরিয়ার কাটায়েব হিজবুল্লাহ (কেএইচ) এর পাঁচটি ঘাঁটি আক্রমণ করেছিল।

মার্কিন বাহিনী ইরাকের তিনটি এবং সিরিয়ায় দুটি কেএইচ ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করেছে, বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই জায়গাগুলিতে অস্ত্র সংরক্ষণের সুবিধা এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোলের অবস্থান অন্তর্ভুক্ত ছিল যা কেএইচ জোট বাহিনীর উপর হামলা করার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করার জন্য ব্যবহার করে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের কুদস ফোর্সের সাথে কেএইচের যোগাযোগ রয়েছে এবং ইরানের কাছ থেকে তারা বারবার প্রাণঘাতী অস্ত্র এবং অন্যান্য সহায়তা পেয়ে আসছে।

কিরকুক প্রদেশে মার্কিন রক্ষী বাহিনীর কে-১ সামরিক ঘাঁটিতে একটি রকেট ব্যারেজ আঘাত হানার দু’দিন পর এই আক্রমণ করা হয়েছিল, তাতে আমেরিকার এক ঠিকাদার নিহত এবং আরেকজন আহত হয়।

ইরাক জুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে এবং মধ্য বাগদাদে ভারী মজবুত গ্রিন জোনকে লক্ষ্যবস্তু বিদ্রোহীদের মর্টার এবং রকেট আক্রমণ করা হচ্ছিল।

গত ১৪ ডিসেম্বর, ইরাকের মার্কিন দূতাবাস একটি বিবৃতিতে সামরিক ঘাঁটি যেখানে মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, সেখানে হামলা চালানোর অভিযোগে ইরানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সমর্থন করার জন্য ইরাকে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, তারা মূলত ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে থাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের একটি অংশ যা ইরাক ও সিরিয়ায় উভয়দিকে আইএস টার্গেটের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে।