ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ তৌফিক

ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী মোহাম্মদ তৌফিক এলাহীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

১ ফেব্রুয়ারি, শনিবার তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারহাম সালেহ। কিন্তু মোহাম্মদ তৌফিককে ‘ক্ষমতাসীনদের লোক’ আখ্যা দিয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা।

টানা বিক্ষোভ-সহিংসতার মাঝে গেল ডিসেম্বরে দেশটির পার্লামেন্টে পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কয়েকশ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের নতুন সরকার গঠনের আর মাত্র এক মাস বাকি আছে। এরই মধ্যে মোহাম্মদ তৌফিককে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলেন প্রেসিডেন্ট বারহাম সালেহ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছেন মোহাম্মদ তৌফিক।

এ সপ্তাহের শুরুতে দেশটির স্থানীয়ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী মোহাম্মদ তৌফিক এলাহীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা পূর্ববর্তী প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যানের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আল্টিমেটাম দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারহাম সালেহ।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) মোহাম্মদ তৌফিক এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দেন, তাকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‌‘আপনারা ত্যাগ ও সাহসিকতা না দেখালে দেশ পরিবর্তন হবে না। আমি আপনাদের বিশ্বাস করি এবং এ কারণে আমি চাই আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যান।’

এছাড়া তিনি বিক্ষোভকারীদের হত্যার দায় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

মোহাম্মদ তৌফিক একজন শিয়া ধর্মালম্বী। তিনি লেবাননে পড়াশোনা করেছেন। এর আগে দুইবার ইরাকের যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মোহাম্মদ তৌফিক।

উল্লেখ্য, বাগদাদের দুর্নীতিগ্রস্ত ও ইরান সমর্থিত ক্ষমতাসীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন হাজার হাজার ইরাকি। সঙ্কট মোকাবিলায় ইরাক সরকার ও দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিস্ক্রিয়তা সাধারণ জনগণের ক্ষোভকে তীব্র করেছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যাপক সংস্কারের অঙ্গীকার করেছিলেন। পরে টানা বিক্ষোভ-সহিংসতার মাঝে ডিসেম্বরে দেশটির পার্লামেন্টে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।