ইউক্রেনীয় বিমানের ব্ল্যাক বক্স ইউক্রেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান

ইউক্রেনীয় বিমানের ব্ল্যাক বক্স ইউক্রেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।

ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ১৮০ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়া ইউক্রেনীয় বিমানের ব্ল্যাক বক্স ইউক্রেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।

ইরানের বেসামরিক বিমান সংস্থার প্রধান হাসান রেজাইফারের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রেজাইফার বলেছেন, ‘ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বিধ্বস্ত বিমানটির ব্ল্যাক বক্স ইরানে বিশ্লেষণ করা হবে না। সেগুলো বিশ্লেষণের জন্য ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ব্ল্যাক বক্সগুলো তখন ফ্রান্সে পাঠানো হবে।’

ইতোমধ্যে ব্ল্যাক বক্স ও ভয়েস রেকর্ডারের তথ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষজ্ঞদের আসার ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে ইউক্রেনীয় বিমানটি ব্ল্যাক বক্স বিমানের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান।

ব্ল্যাক বক্স এমন এক ডিভাইস যেখানে বিমানের সমস্ত ডেটা রেকর্ডিং ও ককপিট ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার অংশ বিমান চালকের কক্ষের সব অডিও কিংবা কথাবার্তা রেকর্ড থাকে। আর ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার অংশে বিমানের গতি, বাতাসের গতি, বিমানটি কত উঁচু দিয়ে যাচ্ছে, জ্বালানি প্রবাহ, চাকার গতিবিধিসহ টেকনিক্যাল বিভিন্ন তথ্য রেকর্ড থাকে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সশস্ত্র শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে প্রক্সি যুদ্ধ চলছে এরইমধ্যে তেহরানে এত বড় বিমান দুর্ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। এরইমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ভুলবশত ইউক্রেনের বিমানটি ভূপাতিত করার কথা স্বীকার করে ইরান। এর পরই তোপের মুখে পড়েন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও দেশটির ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি।

শুরুতে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (সিএও) প্রধান আলি আবেদজাদেহ বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বিমান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাক বক্স হস্তান্তর করা হবে না। এ দুর্ঘটনা তদন্ত করবে ইরান, চাইলে ইউক্রেন সঙ্গে থাকতে পারে।’