আসিফ আকবরের আগমনে ভক্তদের শ্লোগান

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে শ্যামলী সিনেমা হলের সামনে পা রেখেই চমকে গেলেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর! তার সঙ্গে আসা অন্য শিল্পী-কুশলীদেরও ছানাবড়া চোখ। কয়েক মিনিটের জন্য তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন বিরাট জনসমুদ্রে। এ সময় একদল তরুণ মিলে স্লোগান দিচ্ছিলেন, ‘আসিফ ভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ বলে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় দর্শকের সঙ্গে বলাকা সিনেমা হলে মর্নিং শো উপভোগ করেন সদ্য নায়ক হওয়া আসিফ আকবর। বাংলাঢোল প্রযোজিত ‘গহীনের গান’ দেখতে এ সময় আসিফের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহশিল্পী তানজিকা আমিন, অভিনেতা আমান রেজা, পরিচালক সাদাত হোসাইন, সংগীত পরিচালক তরুন মুন্সী, সিনেমাটোগ্রাফার বিদ্রোহী দীপন, প্রযোজক এনামুল হকসহ অনেকে।

‘গহীনের গান’ মুক্তির ঠিক আগে আগে দেশে জেঁকে বসেছে শীত। এরই কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলাকায়। শীতকে উপেক্ষা করে হলে আসা দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ বলেন, ‘ছুটির দিনে ঘরে বসে আরাম না করে অনেকেই সিনেমা দেখতে এসেছেন। এই ভালোবাসা বিরল, নজিরবিহীন। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

দুপুরের প্রদর্শনীতে শ্যামলী সিনেমা হলে দর্শক উপস্থিতি ছিলে ৮০ ভাগ। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত আসিফ আকবর ও তার ‘গহীনের গান’ টিম। পূর্ব ঘোষণা শুনে আসিফের পাগল-ভক্তরা এখানে হাজির ছিলেন আগে থেকেই। হলের সামনে পা রেখেই অন্যরকম শুভেচ্ছায় সিক্ত হন তিনি। ভক্তরা সমস্বরে বলছিলেন, ‘আসিফ ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’। এ সময় সেলফি-শিকারীদের পাল্লায় পড়েন আসিফ। প্রদর্শনী শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ভক্তদের সময় দেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সময় ছবিটি উপভোগ করেন।

মুক্তির প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হয় মধুমিতা হলে। এই হলে সন্ধ্যার শোতে দর্শক উপস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হল কর্তৃপক্ষ ও ছবির শিল্পী-কুশলীরা। এখানেও প্রদর্শনী শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ভক্তদের ভালোবাসার বেড়াজালে আটকে ছিলেন নায়ক-গায়ক আসিফ। এই প্রদর্শনীতে আসিফের সঙ্গে যোগ দেন ছবিটির অন্য তিন অভিনয়শিল্পী তমা মির্জা ও কাজী আসিফ রহমান ও তুলনা আল হারুন। সারাদেশের ১৪টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ‘গহীনের গান’।

নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি মুক্তির প্রথম দিনের তিনটি হলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলে? আসিফ বলেন, ‘অভিজ্ঞতা দারুণ। আমি অভিভূত, আমি কৃতজ্ঞ। আমি কখনও লটারি জিতিনি। আমি সবকিছু ছিনিয়ে নিয়েছি, অর্জন করেছি। ভালো কাজ দিয়ে আমি সবার হৃদয় জয় করেছি। এই ছবিটির বেলায়ও আমি সবার ভালোবাসা পাবো, এটি আমার বিশ্বাস। প্রথম দিন হিসেবে ছবিটির প্রতি দর্শকের ব্যাপক আগ্রহ দেখে আমরা আশাবাদী। আমি চাই যারাই ছবিটি দেখছেন, তারা ভালো লাগার কথা, ছবিটি নিয়ে অনুভূতির কথা সবাইকে জানিয়ে দেবেন।’

মুক্তির দ্বিতীয় দিনে ছবিটির শিল্পী-কুশলীরা সময় কাটাবেন ব্লকবাস্টার সিনেমাস, টঙ্গীর চম্পাকলি ও সাভারের চন্দ্রিমায়। একইভাবে পরের দিনও তারা ঘুরবেন দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে।