আমরা সব দুর্যোগ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা জানি, এটি একটি বদ্বীপ, প্রতিনিয়ত দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগও আসে। সবই মোকাবিলা করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আসলেই আমাদের দাবিয়ে রাখা যায়নি। যাবেও না। আমরা সব দুর্যোগ-সংকট মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছি।

আজ রবিবার (২৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১১০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, ৩০টি জেলা ত্রাণ গুদাম-কাম-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র ও পাঁচটি মুজিব কিল্লার উদ্বোধন এবং ৫০টি মুজিব কিল্লার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা ক্ষমতায় আসে তারা তো ঘুমিয়েই কাটাচ্ছিল। নিজেদের সম্পদ গড়তে ব্যস্ত ছিল। দেশের মানুষকে সম্পূর্ণ অবহেলা করেছে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে মানুষের কল্যাণেই কাজ করেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, আজকে আমরা ১২ বছর ক্ষমতায়, এর মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ অর্থাৎ যে কথাটা ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঘোষণা দিয়েছিলাম রূপকল্প-২০২১, আমরা তা বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অবকাঠামোর উন্নয়ন উন্নয়ন করেছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি এবং ঘর তৈরি করে দিয়েছি যাতে কোনও মানুষ গৃহহারা না থাকে। এটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল, আমরা সেটাই বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং করে যাচ্ছি। কাজেই বাংলাদেশের মানুষ গৃহহারা থাকবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসি তখন বলেছিলাম কোনো কুঁড়ে ঘর থাকবে না, টিনের ঘর দিলেও দেব, দিয়েছিলাম। এখন সেমি-পাকা অথবা দুর্যোগ মোকাবিলায় সহনশীল ঘর তৈরি করে দিচ্ছি; যাতে একটা জায়গা পেলে জীবন রক্ষা পায়। বাংলাদেশ একটা বদ্বীপ, যে কারণে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। আর তাছাড়া বাংলাদেশে মাঝেমাঝেই মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ আসে। এসব মোকাবিলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ হ্রাসে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যাতে সতর্কবার্তা পেতে পারি সেই ব্যবস্থা নিয়েছি। দুর্যোগবার্তা পেতে আরও উন্নত করতে হবে এবং আমাদের দ্বিতীয় স্যাটালাইট যেটা করবো, সেটা আরও বেশি শক্তিশালী যাতে হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি। তা ছাড়া নদীভাঙন বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যারা হয়, তাদের জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যা এলে তাদের যেন আশ্রয় দেওয়া যায়, সে ধরনের বুহুমুখী দুর্যোগের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করা এবং দুর্যোগের সময় যেকোনও অবস্থা যাতে মোকাবিলা করা যায়, সেটা আমরা করছি। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তার দিকে নজর রেখে ভবনগুলো তৈরি করা হচ্ছে।

সরকারপ্রধান বলেন, মুজিবকেল্লা উন্নতমানের করা হয়েছে। সেখানে একদিকে মানুষ যেন আশ্রয় নিতে পারে, আবার গৃহপালিত পশুপাখি- সেগুলো যেন আশ্রয় নিতে পারে তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে প্রাকৃতি উপায়ে দুর্যোগ মোকাবিলা করা হতো, এটা কিন্তু মানুষ প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। বজ্রপাতে মানুষের যেন মৃত্যু না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া ভূমিকম্প, ভূমিধস, বজ্রপাত বা অগ্নিকাণ্ড সবকিছু থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যা যা করণীয় সেই ব্যবস্থাগুলো আমরা করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০২১-২০৩৫ জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। তা ছাড়া বাংলাদেশ একটা বদ্বীপ, এই বদ্বীপ অঞ্চলটার সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আগামী প্রজন্মের জন্য শত বছরের একটা পরিকল্পনা অর্থাৎ ২১০০ সালের জীবনযাত্রা কেমন হবে সেদিকে লক্ষ রেখে ডেল্টাপ্ল্যান করেছি। বদ্বীপ অঞ্চলের মানুষ যাতে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, নিরাপদে বাঁচতে পারে সেই পরিকল্পনা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করব। আল্লাহর রহমতে আজকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি।

করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনরা সবসময় মাস্ক পরবেন। হাত ধুবেন। নিজেদের সতর্কতার জন্য নিজেরাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। অন্যকেও উৎসাহিত করুন।

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের কাজ নিজে করা, বিশেষ করে যুবসমাজ নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সামনে আরকেটা ঘূর্ণিঝড় আসছে। আমরা সতর্কতা নেয়া শুরু করেছি। সবাই সতর্ক থাকলে আমরা এটাও হ্রাস করতে পারব।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।