আগাম জাতের বাম্পার ফলনেও দুঃশ্চিন্তায় পাবনার পেঁয়াজ চাষীরা

129

অনলাইন ডেস্ক : আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনে বাম্পার ফলনেও মন ভালো নেই পাবনার চাষীদের। তাদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য কম হওয়ায় মিলছে না ন্যায্যমূল্য। লোকসান ঠেকাতে আমদানি বন্ধ এবং কৃষক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট বাজার মূল্য নির্ধারণের দাবি পেঁয়াজ চাষীদের।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছর পাবনায় প্রায় ১ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৮ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম জানান, অক্টোবর-নভেম্বরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ হয় এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে এ পেঁয়াজ বাজারে আসে। চারা পেঁয়াজ ওঠার আগ পর্যন্ত মুড়িকাটা পেঁয়াজ দেশের আপৎকালীন চাহিদা মেটায়। চলতি মৌসুমে উৎপাদন সহায়ক আবহাওয়ায় বিঘা প্রতি ৫০ থেকে ৬০ মন গড় ফলন পেয়েছেন চাষীরা। জেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন।

Nagad
তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ জমির পেঁয়াজ তোলা হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ১০ লাখ মেট্রিক টন। এখনো মাঠে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আছে তাতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশী হবে।

Kabir Steel Re-Rolling Mills (KSRM)
তবে, ফলন ভালো হলেও পেঁয়াজ বিক্রি করে লোকসান গুণতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চাষীরা। চাষীরা জানান, প্রথমদিকে, প্রতি মন পেঁয়াজে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা পেলেও, সরবরাহ বাড়ায় হঠাৎই কমে গেছে দাম।

দেশের অন্যতম বৃহৎ পেঁয়াজের হাট পাবনার সুজানগরে গিয়ে দেখা যায়, কুয়াশা ঢাকা শীতের ভোরে মাঠ থেকে মুড়িকাটা পেঁয়াজ তুলে, চাষীরা ছুটছেন হাটে। কৃষক- ব্যাপারির দরকষাকষি, ওজন করা, কুলি হাঁকাহাকি, পরিবহন শ্রমিকদের ভিড়ে হাট জমজমাট। নিচে ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ১১শ’ টাকা মন দরে পেঁয়াজ বেচা-কেনা হচ্ছে। অথচ ১০ দিন আগেও ছিল ১২শ’- ১৩শ’ টাকা মন। এখান থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পেঁয়াজ যাচ্ছে।

পাবনার সুজানগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘গত বছর এ সময় এক মন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। কিন্তু, এ বছর তা পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায়।’ অথচ আমাদের প্রতি মনে উৎপাদন খরচ ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। মুড়িকাটা পেঁয়াজ ঘরে সংরক্ষণ করা যায় না তাই আশানুরূপ দাম না পেলেও চাষীরা পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

পাবনার সুজানগর উপজেলার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। বড় পাইকারদের কাছে এখনও আমদানি করা পেঁয়াজের মজুদ আছে। চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কম। কৃষকের স্বার্থে পেঁয়াজের মৌসুমে আমদানি বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ সরকারি বাজার মূল্য নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর বলেন, সরবরাহ বেশী থাকায় দাম কিছুটা কম। তবে, ফলন বেশী হওয়ায় ‘পেঁয়াজের বর্তমান বাজার দরেও কৃষকদের লোকসান হবে না। এ বছর উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের সক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় তারা লাভবান হবেন।’- অপরাজেয় বাংলা