অবুঝ বউ – সাজেদা আক্তার রানী

আজ আমার দ্বিতীয় ফুলসজ্জা।বিয়ে একটাই কিন্তু একি মানুষের সাথে দ্বিতীয় ফুলসজ্জা।এই ফুলসজ্জার জন্য সম্পূন্য রূমটা আমি সাজিয়েছি।আর এখন নিজে বউ সেজে বসে আছি আমার স্বামী আরাফ এর জন্য।আগের ফুলসজ্জায় কি হয়েছিল কেনো আবার নতুন ফুলসজ্জা সেসব ও জানবেন।তার আগে পরিচয় টা দিয়ে নেই।আমি আমরিন গ্রামের মেয়ে।আমি আমার বাবার একমাত্র মেয়ে।আর জিনি আমার স্বামী তিনি আমার দূর সম্পর্কের মামাতো ভাই।আরাফ রা বছরে ১/২বার তার নানির বারিতে আসতো বেড়াতে।চেনা জানা ভালই।আরাফ ভাইয়া ও খুব ভাল।আমি সবে মাত্র এস.এস.সি দিয়েছি। হুট করেই আরাফ ভাইয়া আর বিয়ের হয়ে গেল।কথা নেই বার্তা নেই আরাফ এর আব্বু আর তার ফুপি রা মিলে সকালে কিসব বললো বিকেলে বিয়ে হয়ে গেলো।সন্ধায় আমায় নিয়ে তাদের বাসায় চলে আসলো।তাদের বাসা আমাদের বাসা থেকে খানিকটা দূরে ১ঘন্টার মতো লাগে।বাসায় আসার পর আমাকে সাজানো হলো।

বধূ সেজে বসে আছি।ঘরটা তেমন ফুল না দিলে ও অল্প ফুল দিয়ে সাজিয়েছে।কারন খুব দ্রুত সব কিছু হয়েত তাই। আমি বসে থেকে চার পাশ দেখছিলাম।এমন সময় দরজা খুলে আরাফ রুমে ঢুকতেই আমার ভয় লাগতে শুরু হলো। লাগাটাই স্বাভাবিক। কারন আমার বান্ধবি লিজা আমাকে একটি রোমান্টিক মুভি দেখিয়েছিল সে মুভিতে বার বার ছেলেটি মেয়েটিকে জোর পূর্বক কিস করে, ফুলসজ্জার রাতে ও জোরপূর্বক শারিরীক সম্পর্ক করে,শারিরীক সম্পর্ক কি আমি জানি না,তখন এটা জানতাম না।ছেলেটা মেয়েটার গায়ে হাত তুলেছিল আর বিছানায় একে অপরকে ধাক্কা দিচ্ছিল এটা দেখে ছিলাম।আর কয়েকদিন আগেই আমি আমার বান্ধবীর ফুলসজ্জার গল্প শুনেছিলাম। ওর বিয়ে মাত্র ১২দিন আগে হয়েছে। ওর বয়স ১৫বছর। আমার চেয়ে ও ১ বছরের ছোটো। ওর নাম বিথি। বিথি বলেছিল ফুলসজ্জার রাতে নাকি ওর হাসবেন্ড ওকে মেরেছিল। কারন টা অনেক আজীব। ওর হাসবেন্ড নাকি ওর শাড়ি খুলে দিতে চেয়েছিল তখন ও বাধা দিয়েছিল । আর নাকি বিথির সাথে অনেক বাজে কাজ করেছে ওর অই হাসবেন্ড যেটা ও বলতেই চাইল না। কিন্তু কি বাজে কাজ? অত শত জানিনা। কিন্তু আরাফ ভাই কি আমাকে মারবে? উনি ত ভাল ছেলে।
হঠাৎ দরজা বন্ধ করার শব্দে আমার ঘোর কাটল। আরাফ ভাই কে দেখে স্বাভাবিক মনে হলোনা যদিও ঘরের ঝাপসা আলোতে কিছুই বুঝতে পারছি না। উনি কি অসুস্থ?। উনি এমনিও অনেক দেরি করে এসেছেন। এত সময় আমার ২ ঘন্টা ঘুম হত। এখন ১২ টা বাজে।
১০ টার সময় আমাকে আরাফ দার মা মানে আমার শাশুড়ী আমাকে সাজিয়ে বসিয়ে দিয়ে গেছে।আরাফ ভাইয়ার কাজিন ভাই দের সব বউ গুলা আমাকে বলে গেছে যে, “ঘুমিয়ে পরো না, আরাফ এর জন্য অপেক্ষা করবা।” আমি শুধু মাথা নাড়ছিলাম।বাড়ির বড়রা অর্থাৎ আরাফ এর কাকিমা,ফুপু আর কে কে যেন বলল, “আজ স্বামী যা চায় তাই ই দিবা।”
স্বামী মানে ত আরাফ ভাইয়া। কিন্তু আমার কাছে কি চাইবে?
তাই উল্টো প্রশ্ন করলাম, “কি চাইবে উনি? আমার কাছে ত কিছুই নেই!”
ঘরের সব মেয়েরা জোরে হেসে উঠল। আরাফের এক কাজিন হাসতে হাসতে বললেন, “ভাবি এ ত পুরা বাচ্চাদের মত কথা বলছে🤣🤣।” আরাফের মা আমার দিকে শক্ত মুখ করে তাকিয়ে আছে।
“গ্রামের মেয়েরা একটু কম বুঝে maybe” বলে হেসে দিলো আরাফ এক কাজিন।
“আজ ই সব বুঝে যাবে। যাই হোক সবাই বের হও এখন।আরাফ কে পাঠাই”, বললেন আরাফের কাকিমনি।
সবাই মুচকি হাসছিল।আমিও বুঝতেছিলাম না কি হচ্ছে আমার সাথে।
সবাই যাবার সময় ঘর অন্ধকার করে দিয়ে গিয়েছে। অন্ধকার আমার ভালো লাগে না। তাও বসে আছি। মরিচ বাতি গুলোর হালকা আলো ভালই লাগছে।
যাই হোক বর্তমান সময়ে আসা যাক।

আমি খাট থেকে নেমে ওনার কাছে গেলাম আরাফ ভাই দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে ছিল।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি ঠিক আছেন? নাকি অসুস্থ?
উনি আমার দিকে নরম চোখে তাকালেন কিন্তু কোনো উওর দিলেন না।
আমি আবার বললাম, কাউকে ডেকে আনব?
এই কথা বলে কোনো উওরের অপেক্ষা না করেই আমি দরজার খুলতে গেলাম। তখন উনি হঠাৎ আমার হাত ধরলেন। আমি ভয় পেয়ে গেলাম।
আমি শুনলাম উনি বললেন, “Don’t go. Stay with me.”
আমি দ্বিধায় পরে বললাম, আচ্ছা।
কিন্তু আরাফ ভাই আমার হাত ধরে দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে রইল। আমি কি করব বুঝতেছি না। এইভাবে কি সারারাত দাড়িয়ে থাকব? আমিই কয়েক মিনিট পর হাত টা ছাড়িয়ে নিয়ে বিছানার দিকে যেতে লাগলাম। তখন আরাফ বলল, “সব তোমার নাটক ছিল! সব মিথ্যা ছিল?”

আমি ঘুরে তাকালাম কারন আরাফ ভাই
কি বলছে কিছু বুঝলাম না। উনি কি মদ খেয়েছেন? এইজন্য ই কি ২ ঘন্টা দেরি করে এসেছেন?

উনি আস্তে করে কার একটা নাম বললেন কিন্তু আমি ঠিক শুনতে পেলাম না। তারপর উনি আমার দিকে এগুতে লাগলেন। আমি কি করব বুঝতে পারছি না।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরাফ আমাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিল। আমি বললাম, “কি করছেন আপনি?”
আরাফ আমার দুই হাত বিছানার সাথে চেপে ধরল।

– ছাড়ুন আমার লাগছে। ব্যথা পাচ্ছি।
আরাফ আমার দুই হাত ওর এক হাতের মুঠোতে ধরল। আর অন্য হাত দিয়ে আমার শাড়ির আচল বুক থেকে সরিয়ে দিল। সবকিছু এত আচমকা হচ্ছে যে আমি কেদে দিলাম।
– প্লিজ ছাড়ুন আমাকে। কি করেছি আমি।
আরাফ আমার কোমড়ে হাত দিল। আমার সারা শরীর শিউরে উঠল।

আমি কাদতে কাদতে বললাম, “আপনি খুব খারাপ। ছাড়ুন আমাকে। লাগছে আমার।”
আরাফ আমার দুই হাত ছেড়ে দিল। সাথে সাথে আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিবার চেষ্টা করলাম। কিন্তু পারলাম না। আরাফ ওর আঙুল দিয়ে আমার ঠোঁটের লিপস্টিক মুছে দিল। আমি ওনাকে ধাক্কা দেবার চেষ্টা করে বললাম, “আরাফ ভাই প্লিজ ছাড়ুন আমাকে।”
আমার শরীর খুব দুর্বল লাগছে। সকাল থেকে না খাওয়া। আর এখন এসব। আমার গায়ে আর একটুও শক্তি নেই। বলেই আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম।

যখন চোখ খুললাম তখন সকাল হয়েছে। প্রায় সাড়ে সাতটা। মাথা ঝিম মেরে আছে। আশেপাশে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করলাম আমি কোথায় আছি। হঠাৎ গতকাল রাতের কথা মনে এলো। মনে পরাতেই নিজের শরীরের দিকে তাকালাম। গায়ে একটা চাদর দেওয়া। আমি তাড়াতাড়ি উঠে বসে নিজের শাড়ি ঠিক করে নিলাম। রুমে আরাফ নেই। কোথায় উনি?

কাল রাতে কি হয়েছিলো! আমি জ্ঞান হারানোর পরর আর কিছুই মনে নেই আমার। জলদি ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে আসলাম। কাকিমনি, ফুপুমনি আর আমার শাশুড়ী নাস্তা তৈরি করছেন।
আমাকে দেখে কাকিমনি মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন, এত জলদি ঘুম ভেঙে গেল?আমি কিছু বলার আগেই ফুপু মনি বললেন, এখানে তোর কোনো কাজ নেই। তুই উপরে। আরাফের কাছে। আরাফের মার মুখেই শুধু হাসি নেই। উনি অনেক চিন্তিত মনে হচ্ছে।
৮ টার পরেই সবাই নিচে আসতে লাগল নাস্তা করতে। আরাফের মা আমাকে বললেন,আরাফ কোথায়, এখনো ত এলোনা! এত দেরি ত ও করেই না।
আরাফের কাজিন বলে উঠল, প্রতিদিন আর আজ কি এক?সবাই হেসে উঠল।
আমি মনে মনে ভাবলাম যে,আরাফ ভাই ত রুমে নেই, নিচেও কোথাও নেই। গেলেন কোথায় উনি?
আমি বলে উঠলাম, “উনি ত নেই উপরে।”
– নেই মানে! আমার শাশুড়ী তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেন।
– কোথায় ও? (ফুপু)
– আমি জানিনা।
আমি দোটানায় পরে গেলাম। এ কি অবস্থা সবাই আমাকে কেন জেরা করছে! কাল রাতে উনি আমার সাথে যা করেছে এর পর আমার উনার বিষয়ে জানার আর ইচ্ছা নাই।
ফুপুমনি ভ্রু কুচকে আবার বললেন, জানিনা মানে কি! রাতে ছিল না তোর সাথে?আমি বললাম, ছিল ত কিন্তু….-কিন্তু কি? (শাশুড়ী)
আমার শাশুড়ী ব্যস্ত হয়ে পরলেন। ছেলের কোনো খবর কেউ জানেনা বাসার এইজন্য।
আমি এখন কি বলব? কিভাবে বলব আমি জ্ঞান হারানোর পর কি হলো কিছুই ত জানিনা। আর কাল রাতের কাহিনীও খুব একটা সুন্দর না যে বলব।

ফুপুমনি বলল, আরে ভাবি শান্ত হও। গেছে হয়ত কোথাও কাজে। ছেলে কি পিচ্চি যে কেউ ধরে নিবে।
সবাই খেতে বসে পড়ল। শুধু শাশুড়ী মা ই বাকি রইলেন। ছেলে না আসলে নাকি খাবেন না।
আমি কাল থেকে না খেয়ে আছি এখন উনার জন্য আরো না খেয়ে থাকতে পারব না। আমি খেতে বসে পড়লাম। আমার শাশুড়ীর সেটা ভালো লাগল না তার চাহনি দেখলে বুঝলাম। তাতে আমার আপাতত কিছু যায় আসেনা। আমি আগে খেয়ে নেই। সবার খাওয়া চলছে এমন সময় বাসার টেলিফোন বেজে উঠল। শাশুড়ী মা জলদি ফোনের কাছে গেলেন ধরার জন্য।
– হ্যালো
– হ্যা। হ্যালো মা আমি….
– আরাফ? কই তুই?
সবাই শুনছে আর খাচ্ছে। ফুপু মনি বলল, দেখল?! পাগোল হয়ে গেছিলে ছেলের চিন্তায়।
আরাফ ওপাশ থেকে বলল, “আমি ঢাকা চলে এসেছি।”
আমার কাজ ছিল তাই।
আরাফের মায়ের মাথায় যেন আকাশ ভেংগে পরল।
তিনি বললেন, “কি? কোথায় তুই? তোর কি বিয়েটা ছেলেখেলা মনে হয়? আজ না বৌভাত। কখন গেছিস তুই?”
– মা প্লিজ। ধরে বেধে বিয়ে দিয়েছ ভাল কথা। কিন্তু এসব রিচুয়াল আমার দ্বারা হবেনা সত্যি। (আরাফ)
– তুই আজ ই ফিরে আসবি।
– আমার প্রজেক্টে কাজ আছে আজ থেকে। বাই মা। লাভ ইউ।সবাই মোটামুটি খাওয়া বন্ধ করে উৎসুক চোখে আরাফের মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। কি হলো কেউ বুঝছে না।সবাই খাওয়া থামালো। তাই আমিও থামালাম খাওয়া।

শাশুড়ী মা বললেন, “আমরিন আমার সাথে উপরে আসো।”
আমি মনে মনে বললাম এখন আবার কি হলো? আমি কি কিছু ভুল করেছি!আরাফ ভাই কি আমার নামে কিছু মিথ্যা বলে দিয়েছে?
“কি হয়েছে ভাবি?” কাকিমনি আর ফুপুমনি বলল।
আরাফেরর বাবা বলল, “কোথাও ও?”

“ঢাকা তোমার ছেলে” উওর দিলেন তিনি।
“কি হলো আসো আমার সাথে” (শাশুড়ী মা আমার দিকে কঠর চোখে তাকিয়ে বলল)

“মেয়েটা খাচ্ছে তুমি ওকে টানাটানি করছ কেন?” বললেন আরাফের বাবা।

– তুমি তোমার কাজ করো, আমরিন উপরে আসো। (শাশুড়ী)
আমি খাওয়া ছেড়ে উঠলাম। আমার পিছে পিছে কাকিমনি আর ফুপুমনিও আসলো।

আমাকে আরাফের রুমে নিয়ে দাড় করানো হলো।
– আমার ছেলে চলে গেল আর তুমি আমাকে জানানোর প্র‍য়োজন মনে করোনি?
আমি হতাস গলায় বলতে লাগলাম আমি জানিনা উনি কখন গেছেন সত্যি।

– এখান থেকে যেতে কমপক্ষে ৫ ঘন্টা ত লাগবেই। এখন সে ঢাকাতে মানে ও অবশ্যই মধ্যরাতেই বের হয়েছে। (শাশুড়ী)ফুপুমনি বলল, কাল আসে নাই ও রুমে?
– এসেছিল।
– কখন? (কাকিমনি)
– উনি ১২ টায় এসেছিলেন।
– এত দেরি? আমি ত ওকে ১০ টায় ই পাঠিয়েছিলাম। ফুলসজ্জার রাতেই ও চলে গেল? বাহ! ঠিক করে নি ব্যাপার টা। আজ বৌভাত। কি অবস্থা হবে এখন? (ফুপুমনি)
– হবে না বৌভাত। কোনো অনুষ্ঠানের দরকার নেই। (রেগে এই কথা বললেন শাশুড়ী মা)
– ১২ টায় এসে কি করেছে? সাথে সাথেই চলে গেছে? (প্রশ্ন করলেন ফুপুমনি)
এখন আমি কিভাবে বলব যে উনি এসে আমার সাথে… না না ছি ছি এগুলা বলতে পারব না। তাই মিথ্যা বললাম, হ্যা চলে গেছেন সাথে সাথেই।
– তুই ডাকলি না কাউকে? (ফুপুমনি)
আমি চুপ করে রইলাম।
আরাফের মা বললেন, সত্যিই এই মেয়ে কিভাবে ওর সাথে সংসার করবে?”
– ওর উপর রেগে লাভ আছে ভাবি, তোমার ছেলে কি কথা শোনার মত??! (ফুপুমনি)
কারো কথায় কান না দিয়ে রেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন আরাফের মা।
ওইদিকে রাতে যখন আরাফ আমরিন এর সাথে ওমন আরচন করিছিল সবটা তিশাকে ভেবে করছিল,তিশা হলো আরাফ এর গালফ্রেন্ড।যে নিজ সার্থের জন্য আরাফকে ছেরে গেছে।যখন আরাফ আমরিন এর ঠুটের লিপিস্টিক মুছে দিচ্ছিল আর নিজের ঠুট স্পর্শ করবে তখনি তার ঘোর কিছুটা কাটলো।আরাফ দ্রুত ওঠে কাপড় চোপর গুছিয়ে বেরিয়ে গেলো।সাথে তার ফ্রেন্ড তমাকে ও কল দিয়ে আসতে বললো।তমা ও আরাফ ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে যাচ্ছে,তমা জিজ্ঞাসা করলো কিরে আজ না তোর বাসর রাত, তুই আমরিন কে ছেড়ে ঢাকা যাচ্ছিস কেন?এখন ও তো ছুটি শেষ হয়নি।

আমরিন এর সাথে কি কিছু হয়েছে?আরাফ না কিছু হয়নি।তাহলে তুইকি তোর পাস্ট ভুলতে পারছিস না?দেখ আমরিন তো আজ তুই অতীত এর সব ভুলে নতুন করে জীবন সাজা।আরাফ এটা সম্ভব না।আমরিন খুব ছোট বাচ্চা মেয়ে, কিছুই বুঝে না অবুজ, কিভাবে মেনে নিবো।পরক্ষনেই তমা দেখলে আরাফ এর হাতে লিপিস্টিক লাগানো।তমা দুষ্টুমি স্বরে বলল কিরে তোর হারে লিপিস্টিক আসলো কি করে।আরাফ বলে তেমন কিছুই না তুই যা ভাবছিস।আরাফ ঢাকার এসে কাজে ব্যস্থ হয়ে পরে।দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে আরাফ বাড়ি আসার নাম নেই।মাঝে মাঝে কল দিয়ে মায়ের সাথে কথা বলে, আমরিন এর কথা জিজ্ঞাসা করে না।আরাফ এর মা খুব চিন্তায় পরে গেলো।কেমনে কি হবে।ছেলের মন কেমনে ঠিক করবে।

এদিকে আমরিন খুব ভাল আছে খাচ্ছে টিভি দেখছে ঘুমাচ্ছে।তার কোন চিন্তা নেই।আরাফ এর মা এবার ঠিক করলো আমরিন কে আরাফ এর কাছে পাঠিয়ে দিবে।যে ভাবা সেই কাজ আরাফ এর ফুপার সাথে আমরিন কে পাঠালো আমরিন জানে না যে সে আরাফ এর কাছে যাচ্ছে।আমরিন কে বলছে শুধু বেড়াতে যাবে।আরাফ এর মা আমরিন এর ব্যাগ গুছিয়ে দিল। আমরিন কে গুছাতে দিলো না।আমরিন আর ফুপা হঠাৎ করে আরাফ এর বাসায় উঠলো আরাফ পরো চমকে গেলো।আর আরাফ ও আমরিন দুই জনের মুখ অই কালো হয়ে গেলো একে অপরকে দেখে।ফুপা গেস্ট রুমে গেলো আর আমরিন কে আরাফ এর রুমে গিয়ে ফ্রেশ হতে বললো।আমরিন ফ্রেশ হতে যাবে লাগেজ খুলে চোখ আকাশে উঠে গেলো কারন আমরিন এর শাশুরি একদম পাতলা পাতলা শাড়ি দিয়ে লাগেজ ভরে দিয়েছে।কি আর করার বাদ্দ্য হয়ে সেখান থেকে একটি শাড়ি নিয়ে ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং টেবিলের কাছে গেলো গিয়ে দেখলো রাতের খাবার রেডি।আর সব আরাফ রেডি করছে।আর নিজেই সব রেডি করে। ডিনার করে ফুপা তার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পরলো।আর আমরিন ভয়ে ভয়ে আরাফ এর রুমে গেলো।আমরিন ভাবছে যদি আবার ফুলসজ্জা রাতের মতো কিছু করে।ভাবতে ভাবতেই আরাফ রুমে আসলো আর ভ্রু কুচকে বলে আমার খাটে তুমি ঘুমাতে পারবে না।যাও ওই সোফায় গিয়ে ঘুমাও।আমরিন মনে মনে খুশিই হলো সে বালিশ নিয়ে সোফায় সুয়ে পরলো।আর বিছায় ঘুমিয়ে পরলো।

সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখলো আরাফ রুমে নেই।তাই সে ফ্রেশ হবার জন্য ওয়াশরুমে ডুকলো ডুকে দেখলো আরাফ খালি গায়ে শুধু একটি হাপ পেন্ট পরে সাওয়ার নিচ্ছে, যখন আরাফ দেখলো আমরিন ভিতরে জোরে একটি ধমক দিলো, আমরিন ভয়ে বাহিরে বের হয়ে গেলো আর বললো দড়জা লক না করে রাখলে কি করে বুঝবো ভিতরে কেউ আছে কি নেই।আরাফ আর কিছু বললো না।চুপ চাপ বাহিরে এসে অফিস এর জন্য রেডি হচ্ছে।আমরিন এবার এয়াশরুমে গেলো।আরাফ খাবার খেতে বসে তার ফুপাকে বললো আর কত দিন থাকবা।জলদি বিদায় হও।আর সাথে করে আমরিন কে ও নিয়ে যেও।ফুপা রাজি হলো না।আরাফ ফুপাকে লোভ দেখালো সাজেক যাওয়ার টিকিট করে দিবে।ফুপা ভ্রমন পিপাসু মানুষ সে তখন রাজি হয়ে গেলো।আর আরাফ অফিসে চলে গেলো।আমরিন এসে নাস্তা করে নিল।নাস্তা করে টিভি দেখছে।দুপুরে লাঞ্চ করে একটু ঘুমালো।এদিকে ৫টায় আরাফ আসলো ফুপার হাতে সাজেক যাওয়া আসার টিকিট দিয়ে বললো কালকেই তুমি আমরিনকে নিয়ে বিদায় হবে।তখন হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো ফুপা। পরের দিন আরাফ অফিসে গেল যাওয়ার আগে ফুপাকে বললো তারা যেন বেড়িয়ে পরে।আরাফ চলে গেলো অফিস।
ফুপা তার কিছুক্ষন পর আমরিন কে বলে আমরিন আমি একটু বাহির থেকে আসি, এসে তোকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবো।ফুপা গেল আর আসার নাম নেই এদিকে আমরিন অস্থির হয়ে রইলো ফোন ও নেই যে কল দিবে।৫টায় আরাফ বাসায় এলো ভাবলো এতোক্ষনে তারা চলে গেছে সে আবার ব্যাচেলর ভাবে থাকবে কিন্তু না ঘরে ডুকে পুরো অবাক আমরিন সোফায় বসে মটু পাতলু দেখছে।আরাফ মেজাজ গরম করে রুমে গিয়ে ফ্রেস হতে গেল।আর তখনি আরাফ এর ফোন বেজে উটল অনেক্ষন বাজার পর আমরিন দেখতে গেল কে কল দিল।দেখলো ফুপা কল করেছে আমরিন ফোন ধরে বললো তুমি কই তুমি না আমাকে নিয়ে বাসায় যাবে।ফুপা বললো আমি বাসায় চলে আসছি।আরাফ তোকে নিতে মানা করছে, এটা শুনে আমরিন এর মাথা খারাপ হয়ে গেলো।
আরাফ ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে দেখে আমরিন এর হাতে তার ফোন সে ধমকের সুরে বলে আমার ফোন কেন ধরছো আমার পারমিশন ছাড়া।আমরিন কথা শুনে ফোনটা বিছানার ছুরে মারলো।আর বললো আপনি ফুপাকে কেন বলছেন আমায় রেখে যেতে আমি আপনার সাথে থাকবো না।বাসর সাতে কি করেছিলেন মনে নেই। আমি কিছুতেই আপনার কাছে থাকবো না।আরাফ একথা শুনে ভ্রু কুচকে আমরিন এর দুই পাজরে চেপে ধরলো আর চোখ লাল করে বলতে লাগলো এই মেয়ে তোর মাথা ঠিক আছে কি আবোল তাবোল বকছিস।আমি ফুপাকে বলেছি তোকে নিয়ে যেতে আমি একা থাকতে চাই।চাইনা কাউকে।আর কি বললি, বাসর সাথে কি করেছি কি করেছি বল? আমরিন কাদছে আর বলছে ছাড়ুন আমার লাগছে।আরাফ আমরিনকে ছেড়ে দিল।আর স্টাডি রুমে গিয়ে বসে রইলো।আমরিন কাদঁতে কাদঁতে বিছানায় ঘুমিয়ে পরলো।আরাফ মাঝ রাতে বিছানায় ঘুমাতে এসে দেখে আমরিন গুমাচ্ছে।তাই আরাফ বিরক্ত নিয়ে সোফায় ঘুমিয়ে পরলো।সকালে আমরিন ঘুম থেকে ওঠে দেখে সে বিছানায় সে সুয়ে আছে।আর আরাফ অফিস এর জন্য রেডি হচ্ছে।আরাফ নাস্তা করছে আমরিন ও ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিল আরাফ অফিস চলে গেলো।আমরিন একা ঘরে তাই সে বসে বসে আবার কাটন দেখছে।এভাবে প্রায় দুমাস কেটে গেলো।

একদিন বিকেলে আমরিন কি যেনো ভেবে আরাফ এর স্টাডি রুমে চলে গেলো দেখলো একটি মেয়ের ছবি আঁকা আবার সেটা নষ্ট করে ফেলছে।আর কিছু ছবির টুকরো ছিড়ে ঝুড়িতে ফেলে রাখছে।সে ছবির টুকরো গুলো মিলাতে চেষ্টা করলো পারলো না।দু-একটি টুকরো খুজে পাওয়া যায়নি।সন্ধার সময় আমরিন বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে দেখলো একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।যখন একটি গাড়ি আসলো তার সামনে দাঁড়িয়ে রইলো মেয়েটি গাড়ি থেকে আরাফ নেমে আসলো আর মেয়েটির সাথে কথা বলছে,দেখে মনে হচ্ছে ঝগড়া করছে, আচ্ছা এটা সেই ছবির মেয়েটি নয়তো।আমরিন ভাবলো আমার কি যে হোক।ঘরে এসে আরাফ না খেয়ে সুয়ে রইলো।পরের দিন আমরিন ঘুম থেকে উঠে আমরিন ভাবলো আরাফকে জিজ্ঞাসা করবে ছবির টুকরো গুলো কার।পরক্ষনে ভাবে না যদি রাগ করে,এসব ভাবতে ভাবে সে ওয়াসরুমে ঢুকলো ভাবনার জগতে ছিল বলে দড়জা লাগাতে ভুলে গিয়েছিল।আরাফ ও সেই সময় ভিতরে প্রবেশ করলো দেখলো আমরিন একটি পেটিকোট ও ব্লাউজ পরে অপর দিকে ঘুরে সাওয়ার নিচ্ছে, আরাফ ধীরে ধীরে আমরিন এর পিছন থেকে চুল সরিয়ে নিয়ে মনের অজান্তেই চুমু দিল।আমরিন কেপে উঠলো।ও ঘুরে দাঁড়িয়ে বুকে দু হাত দিয়ে কাপা কন্ঠে বলে আপনি? আপনি এখানে কি দেখুন কাছে আসবেন না ভাল হবে না আমি কিন্তু চেচাবো।আরাফ রেগে গিয়ে আমরিন এর কমরে হাত দিয়ে বলে ঠিক আছে চেচাও, এর বলে আরাফ আমরিন কে ছেরে বাহিরে আসলো আর বললো দ্রুত বের হবে আমি রেডি হয়ে অফিস যাবো লেট হচ্ছে। এ বলে সে দাঁড়িয়ে রইলো আর ভাবছে কেন করলো হঠাৎ এমন কান্ড এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠল আরাফ দরজা খুলে দেখে তমা এসেছে।তমা বলে কিরে ভিজা কেন? গোসল করছিলি নাকি।আর তর বউ কই আমরিন, আরাফ কেন তাকে দিয়ে কি করবি, তমা -কি করবো মানে দেখবো আমি ত তাকে এখন দেখিনি।তাই আজ আসলাম।কই ও? আরাফ বলে সাওয়ার নিচ্ছে, তমা তখন দুষ্টুমি শুরু করে দিল, কিরে বউ সাওয়ার নিচ্ছে তুই ভিজা ঘটনা কি।আরাফ রাগি চোখে বলে তেমন কিছু না।তমা বলে বুঝি বুঝি সবি বুঝি।

আমরিন বেড়িয়ে এসে মেয়েটিকে দেখে চুপ করে রইলো।আরাফ সাওয়ার নিতে গেলো।তমা এগিয়ে এসে বললো, হাই আমি তমা আরাফ এর বেষ্ট ফ্রেন্ড।দুইজন পরিচিত হলো।দুইজন বসে গল্প করছে।তখন আমরিন কে জিজ্ঞাসা করলো তুমি বিয়ের আগে কিভাবে দিন কাটাতে।আমরিন বললো সকালে ঘুম থেকে উঠে পরতে যেতো,তার পর এসে খাওয়া দাওয়া করে রেডি হয়ে স্কুল যেতো স্কুল থেকে এসে পুকুরে গোসল করতো, সব মেয়েদের সাথে দায়ড়া, কুতকুত খেলতো গাছে উঠে আম পেয়ারে পেরে বসে খেতো,আর সময় হলেই কাটুন দেখতো এমনি দিন কেটে যেতো।তমা কথা গুলো শুনে হা হয়ে আছে।তমা বলে তোমার কোন বয়ফ্রেন্ড ছিল না ?আমরিন বললো না।কোন ছেলে ফ্রেন্ড ও নেই?আমরিন বললো নেই।তমা বললো বুঝছি তুমায় সব শিখাতে হবে।আরাফ বের হয়ে এসে বলে কি শিখাবি তুই ওকে।এমনি ওর মাথার স্কু ডিলা আছে তুই আর ডিলা করিস না।বলে নাস্তা করতে গেলো।৩জন একসাথে নাস্তা করছে।তমা বললো আরাফ আমরিনকে কলেজে ভর্তি করে দিলেই ত পারিস মেয়েটা সারাদিন বোড় হয়ে যায় বাসায়।আরাফ বললো হ্যা মা ও বলেছে ভর্তি করাতে কিন্তু আমিতো ব্যস্ততার জন্য বের হতে পারছি না।তমা তুই একটু সময় করে ওকে ভর্তি করিয়ে দিস।আমরিন খুব খুশি হলো।আরাফ নাস্তা করে চলে গেলো অফিসে।তমা আর আমরিন গেলো কলেজে।ভর্তি করিয়ে দেওয়ার পর পিন্সিপাল এর সাথে তমা আমরিন এর পরিচয় করিয়ে দিল।পিন্সিপাল আমরিন এর ক্লাসে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।সবাই একটু অবাক পিন্সিপাল নিজে এসেছে পরিচয় করিয়ে দিতে তাই অনেক মেয়ে আগ্রহ নিয়ে আমরিন এর সাথে ফ্রেন্ডশিপ করলো।তমা আমরিন এর নতুন ফ্রেন্ডদের আরালে নিয়ে কি কি জেনো বললো।আমরিন শুনতে পারলো না।তমা আমরিন কে নিয়ে কিছু শপিং করলো আর সাথে একটা স্মার্ট ফোন কিনে দিল।ফোন তমার নিজের আর আরাফ এর নাম্বার সেভ করে দিল।আর সাথে অনেক গুলো রোমান্টিক মুভি ডাউনলোড করে দিল।তমা বললো আজ থেকে কাটন দেখা বন্ধ। তমা সন্ধায় পরতে বসলো আরাফকে বললো ইংরেজি বুঝিয়ে দিতে আরাফ বুঝিয়ে দিল।আর অপলক ভাবে আমরিন কে দেখছে। হঠাৎ ফোন বাজলো আরাফ নাম্বার দেখে বিরক্ত নিয়ে সাইডে গিয়ে কথা বললো। তার পর বিছানায় মাথায় হাত দিয়ে ঘুমিয়ে পরলো।মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে দেখে ১২বারটা বাঝে। আরাফ খাবার এর জন্য ডাইনিং টেবিলে যাচ্ছিল।তখন তার চোখ পরলো আমরিন এর উপর। আমরিন অগোছালো ভাবে সোফায় সুয়ে আছে।পায়ের থেকে কাপর কিছুটা সরে গেছে আরাফ কিছুটা ঘোরে চলে গেল।সে আমরিন এর পায়ের স্পর্শ করে। আমরিন কিছুটা নরে চরে সুয়ে রইলো আরাফ এর হুশ ফিরলো।সে আমরিন এর কাপরটা ঠিক করে চলে গেলো। খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরিলো।আমরিন পরের দিন নাস্তা করে আমরিন কলেজ গেলো।আরাফ অফিসে।আমরিন কলেজে বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল।আর সবাই মিলে আমরিন এর থেকে রোমান্সটিক মুভি দেখছিল আর দুষ্টুমি করছিল।হঠাৎ আরাফ কল দিল।আমরিন রিসিভ করলো।আরাফ বললো শুনো কোন ছেলের সাথে কথা বলবে না।কোন ছেলের সাথে বন্ধুত্ব করবে না।যা বলার আমার সাথে বলবে ওকে।এই বলে ফোন রেখে দিল।বাসায় এসে আমরিন ফোনে মুভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পরলো।আরাফ এসে ডেকে তুলে আমরিন কে পরতে বসালো।এভাবেই কেটে গেলো কয়েকটি মাস।কলেজ টু বাসা পরতে বসা মোবাইল দেখা ভালই কাটছে দিনগুলো।

একদিন তমা ফোন দিল আমরিন বিকেলে রেডি থেকো,আজ আমরা এক পার্টিতে যাবো আমরিন বললো কিন্তু উনি যদি কিছু বলে।তমা বলে আরে কিছু বলবে না আরাফ ও সাথে যাবে। কথা মতো সন্ধ্যায় পার্টিতে গেলো।আরাফ এর খুব মাথা ব্যাথা করছে তাই সে সোফায় বসে একটু ড্রিংস নিল।তমা আর আমরিন সাথে তমার কিছু ফ্রেন্ড দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।হঠাৎ আমরিন দেখলো একটি মেয়ে আরাফ এর সাথে কেমন করে জেনো কথা বলছে, আমরিন এর ভিতরটা কেমন জেনো লাগছে।আমরিন গিয়ে আরাফ এর পিছু দাড়ালো।তমা বিষয়টা বুঝতে পারলো,তাই সে ও আরাফ এর কাছে গিয়ে দাড়ালো।তমা বললো, তিশা তোমার তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে এঙ্গেস্টমেন্ট হয়ে গেছে তবু কেন আরাফ কে জালাচ্ছো আর তুমি ত ছলনা করে আরাফ কে ছেড়ে গেছো।তাহলে আবার কেনো ওর বিবাবিত লাইফে আসতে চাও,আর এই পার্টির মধ্যে এন সিনক্রিয়েট করছো।তিশা বললো কি বললে তুমি আমি সিনক্রিয়েট করছি দাড়াও দেখাচ্ছি এই বলে জুসের গ্লাস হাতে নিয়ে জুস টা আরাফ এর মুখ মেরে দিল।তা দেখে সবাই হা হতে গেলো। তিশার বান্ধবী গুলা হাসাহাসি করছিল।তখন আমরিন একটা মদের গ্লাস নিয়ে তিশার মুখে মারলো এতে সবাই আরো চমকে গেলো।সবার হাসি বন্ধ হয়ে গেলো।তিশা রাগে ফেটে যাচ্ছিল, আমরিন কে চড় মারার জন্য হাত উঠালো তখন আরাফ হাত ধরে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দিল।আর বললো আর কখনো আমার সামনে আসবিনা, আসলে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না।তমা বললো আরাফ তোর তো মাথা ব্যথা বল বাড়ি ফিরে চল।তমা নিজের বাসায় চলে গেল।আর আরাফ আমরিন বাসায় আসলো। আরাফ মাথায় হাত দিয়ে সুয়ে রইলো। তমা ডেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে নেকলেস ও কানের দূল খুলছিল।আরাফ মিট মিট করে তাকিয়ে দেখছিল, আজ আমরিনকে অনেক সুন্দর লাগছে,আরাফ উঠে আস্তে করে পিছন থেকে আমরিনকে জড়িয়ে ধরলো কিন্তু এবার আমরিন কিছু বললো না, তার কাছে এসব এখন ভাল লাগছিল।আমরিন লজ্জায় মাথা নিচু করে রইলো।আরাফ আমরিন এর গাড়ে চুমু দিচ্ছিল নাক ঘসছিল।আমরিন কেমন যেনো কেপে উঠল,আরাফ আমরিন কে ঘুরিয়ে ঠুটে ঠুট ছুয়ালো।অনেক্ষন যাবৎ একে অপরকে কিস করলো হঠাৎ আরাফ এর কি যেনো হলো।সে আমরিন এর থেকে সরে বললো সরি সরি।বলে স্টাডি রুমে গিয়ে দড়জা লাগিয়ে দিল।মাঝ রাতে রুমে আসলো দেখলো আমরিন সোফায় ঘুমাচ্ছে, আরাফ আমরিনকে কুলে নিয়ে বিছানায় সুইয়ে দিল।মাঝখানে বালিশ রেখে দুইজন দুইদিকে সুয়ে পরলো।

সকালে ঘুম ভাঙতেই আমরিন দেখলো সে বিছানায়।ভাবছে আমি বিছানায় আসলাম কি করে তাহলে কি আরাফ ভাই নিজে আমায় এখানে এনেছেন।ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে গেলো কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না লজ্জায়।এভাবে বেশ কয়েক মাস কেটে যায় তাদের মধ্য আগের মতো আর ঝগড়া হয়না।সব কিছুই নরমাল। এভাবেই চলছিল। আমরিন এর এইচ,এস,সি দেওয়া হলো সে বেশ খুশি তার রেজাল্ট A+ এসেছে,আমরিন খুশিতে বাসায় এসে আরাফ কে ঝরিয়ে ধরলো।এই প্রথম আমরিন নিজে থেকে আরাফকে স্পর্শ করলো তাকে জরিয়ে ধরলো।আরাফ ও আমরিনকে ঝরিয়ে ধরলো।এভাবে কিছুক্ষন চুপ থেকে আমরিন আরাফ কে ছেরে দিল লজ্জায় লাল হয়ে গেলো।আরাফ বুজতে পারছে এটা আর তার অবুঝ পিচ্চি বউ নেই সে এখন অনেক কিছু বুঝতে শিখেছে।

কিছুদিন পর আরাফ আমরিনকে ভার্সিটিতে ভর্তি করিয়ে দিল।আমরিন প্রতিদিনের মতো রুটিন হয়ে গেলো ভার্সিটিতে থেকে বাসা, আর সময় মতো পরতে বসা।এখন আরাফ আর আগের মতো পাচটায় বাসায় আসে না।কাজের চাপ পড়াতে বাসায় আসতে ৮/৯বেজে যায়।কিছুদিন পর আমরিন ভাবল অনেক দূরে সরিয়ে রেখেছি নিজের স্বামিকে আর নয় এখন আমি তাকে নিজের একান্ত করে নিতে চাই।যে ভাবা সেই কাজ।আমরিন তমার সাহায্য নিয়ে পুরো ঘর সাজিয়েছে নিজের রুমটা ফুলসজ্জার মতো সাজিয়েছে আর নিজে ও বধূ সেজেছে।তমা চলে গেল, আরাফ এর বাসায় আসার সময় হয়ে গেছে।

আমি আরাফ এর জন্য একটি সেরোয়ানি আর একটি চিঠি লিখে ডাইনিং টেবিলের উপর রেখে আসলাম।সমস্ত ঘর এর বাতি নিভিয়ে প্রদীপ জালিয়ে এলাম।আমি খাটের উপর বসে আছি।৯টা বাজে আরাফ বাড়িতে আসলো দেখলো পুরো ঘর সাজানো জাইনিং টেবিলে প্রদীপ এর পাসে কিছু রাখা।আরাফ চিঠিটা হাতে নিয়ে পরলো- কি ভাবছেন ভুল ঘরে এসে পরেছেন? না ভুল ঘর নয় আপনারি ঘর।যেদিন আপনার সাথে বিয়ে হয় তখন জানতাম বা বাসর ঘর কি?স্বামি কি?আর সেদিন বাসর রাত ত কিছুই পাই নি ভয়ে ঙ্যান হারালাম।আর তার পরে অবুঝ বলে আপনার থেকে স্বামীর অধিকার পাইনি।হ্যা পরে যা পেয়েছি সেটা বন্ধুর মতো সাপোর্ট।আপনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি এখন থেকে আর কষ্ট দিবো না।সেই রাতে যা হয়নি আজ তা হবে।আমি চাই আজ থেকে এই মূহুর্ত থেকে আমরা নতুন জীবন শুরু করবো। কি ভাবছেন বাচ্চা মেয়েটা পাগল হলো নাকি না আমি পাগল হইনি ঠিকি আছি আর এখন আমি বাচ্চা ও নই।আমার বয়স ১৯+ এখন আমি সবটাই জানি।আপনার জন্য সেরোয়ানি রেখে দিলাম ওযু করে সেরোয়ানি পরে ভিতরে আসুন আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করছি বধূ সেজে, চিঠিটা পরে আরাফ খুশিতে নাচতে শুরু করলো।সে দ্রুত ওযু করে সেরোয়ানি পরে রুমে গেলো।আমরিন উঠে এসে আরাফ কে সালাম করতে চাইলো আরাফ তাকে সালাম করতে না দিয়ে জরিয়ে ধরলো।কিছুক্ষন নিরব দুইজন। আমরিন এবার আরাফকে বললো ওযু করে এসেছো, আরাফ বললো হুম।দুইজন মিলে নামাজ পরে নিল।আরাফ খুব অবাক আমরিন এতো কিছু কিভাবে জানলো।আমরিনা কেন্ডেলাইটে ডিনার সাজিয়েছে দুজন একে অপরকে খাইয়ে দিল।কিছুক্ষন বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আকাশের চাঁদ দেখছিল,কিন্তু আরাফ শুধু আমরিনকেই দেখে যাচ্ছে।
আমরিন একের পর এক কথা বলছে আরাফ কিছুই কানে নিচ্ছে না সে পিছন থেকে আমরিন কে জরিয়ে ধরলো। আর তার পিঠে পাগলের মতো মুখ ঘসতে লাগলো।আমরিন পুরো মাতাল হয়ে যাচ্ছিলো।সে সইতে না পেরে জানালাকে খামছে ধরে, আরাফ আমরিন কে ঘুরিয়ে এবার চোখে মুখে ঠোটের স্পর্শ দিতে লাগলো।আর ঠোটের সাথে ঠোট ডুবিয়ে দিল।আমরিন আরাফ এর সেরোয়ানি খামছে ধরে ডুবে রইলো, বেশ কিছুক্ষন পর আরাফ আমরিন কে কুলে নিয়ে খাটে শুইয়ে দিল।আর চুমুতে চুমুতে আমরিনকে ভরিয়ে দিচ্ছে।আর একে একে শারির পার্ট খুলছে।……..তারপরের গুলা ভেবে নিন।
সকালে আমরিন এর ঘুম ভাঙ্গলো সে দেখলো সে আরাফের বুকের উপর আরাফ তাকে শক্ত করে ঝরিয়ে শুয়ে আছে সে ছুটতে চাইছে কিন্তু পারছে না একটু চেষ্টা করাতেই আরাফ ঘুম ঘুম চোখে বলে উঠোনা আর একটু থাকো।আমরিন আরাফের কান মধ্যে কামর দিয়ে বলে আমার খুদা লেগেছে ছাড়ো ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করবো।জানো না আমি খুদা সহ্য করতে পারি না।আরাফ আমরিন কে ছেরে দিল।আমরিন উঠতে যাবে তখন দেখলো আরাফ ও আমরিনের দুজনের গায়েই কোন কাপর নে আমরিন লজ্জা পেয়ে আরাফ কে জরিয়ে ধরলো।আরাফ আমরিন কে ও কুলে নিয়ে ওয়াসরুমে ডুকলো।দুজনেই সাওয়ার নিয়ে নাস্তা সেরে নিল।আরাফ অফিস যেতে চাচ্ছিল না, বার বার দুষ্টুমি করছিল।আমরিন বুজিয়ে অফিসে পাঠালো।আর নিজে ও ভার্সিটিতে গেল।এভাবেই মিষ্টি মধুর ভালবাসায় দুজনের দিন কাটতে থাকে।
এক বছর পর আমরিন এর শরিলটা খারাপ লাগে কিছুদিন যাবৎ বমি করে মাথা ঝিম ঝিম করে শরির অনেক ক্লান্ত লাগে আরাফ এটা লক্ষ করে, আর বললো রাতে এসে ডাক্তার কাছে নিয়ে যাবে।আরাফ অফিস গেলো আমরিন না খেয়ে সুয়ে রইলো।আমরিন এর শাশুরি কল দিলো।খুজ খবর নিতে।আমরিন সবটা বললো।আমরিন এর শাশুরি বুজতে পারলো।সিউর হবার জন্য তমার কাছে ফোন দেয়।তমা এসে আমরিন কে ডাক্তার কাছে নিয়ে যায়, ইউরিন টেষ্ট করে জানতে পারলো তমা প্রেগন্যান্ট। আমরিন এর শাশুরি খবরটা পেয়ে পরের দিন চলে আসে ঢাকায়।আমরিনকে সারাক্ষণ রেষ্ট এ থাকতে বলে,হাটাচলা করতে বলে।কোন কাজ করতে দেয় না।এভাবেই দিন কাটতে থাকে ৯মাস পরে সিজারে আমরিন এর ছেলে হলো সবাই অনেক খুশি।এভাবেই কেটে গেলো আরো দুই বছর আমরিন এর BBA কমপ্লিট হলো।সকালে যখনি আরাফ অফিসে যায় আমরিন কে ডাকে,জান আমার টাই কোথায় জান আমার মুজা কোথায়।এটা দেখে আরাফ আমরিন এর ছেলে আয়াশ তোতলাতে তোতলাতে বলে জান আমার খুদা লাগছে।আরাফ ও জান ডাকে আয়াশ ও জান ডাকে।তাদের এই সুখের সংসার দেখে আরাফ এর মা খুশিতে কান্না করে দিল।সে এটাই চেয়েছিল তার ছেলে যাতে সব সময় খুশি থাকে।এদিকে আয়াশ খাবার খাচ্ছে আর আমরিন কে বলছে জান জান রিয়ান রা আমায় খেলতে নেয় না।আমার একটা খেলার সাথি কিনে দিবা।আরাফ আর আমরিন কথা শুনে একে অপরের দিকে চেয়ে হাসছে।
আমরিন যখন আরাফ এর টাই বেধে দিচ্ছিল তখন আমরিন বললো তোমার ছেলে কি বলেছে শুনেছো।আরাফ বলে শুনেছি।তার আরেকজন সাথী চাই।আমরিন বললো ত কি করবো এখন।আরাফ বললো কি আর করবো তুমি বললে আরেক জনের জন্য ট্রাই করবো আমরিন লজ্জায় আরাফের বুকে মাথা দিল।আরাফ ও জরিয়ে ধরে রইলো।তখন আয়াশ এসে বলে এই জান আমায় ও জরিয়ে ধরো।এভাবেই একটি অবুঝ মেয়ে অবুঝ বউ, মা হয়ে গেলো, সুখে শান্তিতে সংসার করতে থাকলো।